• সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৫:২১ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English

বাজেট নিয়ে খুশি হলেও চাওয়া ফুরোয়নি বিজিএমইএর

rmgnews24
আপডেট: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০

ডেস্ক রিপোর্ট: কোভিড–১৯ মহামারী শুরুর পর থেকে আসছে অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকারের অব্যাহত নীতি সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে পোশাক রপ্তানিকারকদের সমিতি বিজিএমইএ। গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ২০২০–২০২১ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন। বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মহামারীর কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলা ও তৈরি পোশাক খাতের সহায়তায় সরকারের পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করলেও রপ্তানি মূল্যের উপর উৎসে কর দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করায় কিছুটা নাখোশ পোশাক মালিকরা। বিজিএমইএর এক বিবৃতিতে বলা হয়, যখন সমগ্র বিশ্ব কোভিড–১৯ এর মহামারীতে টালমাটাল, জনজীবন পর্যন্ত বিপর্যস্ত, ঠিক সেরকম এক অভুতপূর্ব সংকটের মধ্যে থেকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিজের দ্বিতীয় এবং দেশের ৪৯তম বাজেট ঘোষণা করলেন। বাজেট প্রস্তাবনায় তৈরি পোশাক শিল্পখাতে রপ্তানির বিপরীতে যে নগদ সহায়তাগুালো চালু আছে সেগুলো অব্যাহত রাখার এবং পাশাপাশি অতিরিক্ত ১ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তাও অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। খবর বিডিনিউজের। গতবছর পোশাক শিল্পের আবেদনের প্রেক্ষিতে উৎসে কর কমিয়ে ০.২৫% হারে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছিল। শিল্পের এই কঠিন সময়ে উৎসে কর ০.২৫% হারে আরও ৫ বছর অব্যাহত রাখতে অর্থমন্ত্রীর প্রতি বিজিএমইএ বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী রপ্তানিমুখী শিল্পের পণ্য মূল্যের উপর উৎসে কর হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে নতুন অর্থবছরে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কাটার প্রস্তাব করেন। যদিও আয়কর অধ্যাদেশে এক শতাংশ হারে উৎসে করহার কর্তনের কথা বলা আছে।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কোভিড–১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক। তিনি বলেন, বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই, বাজেট প্রস্তাবনায় আর্টিফিশিয়াল ফাইবার উৎপাদনকে কর হ্রাসের জন্য। যদিও রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের চাহিদার কারণে গত কয়েক দশকে আমাদের পশ্চাদসংযোগ শিল্পখাতটি উল্লেখযোগ্যভাবে বিকশিত হয়েছে, তবুও প্রাথমিক বস্ত্রখাত উৎপাদনের ক্ষেত্রে ম্যানমেড ফাইবার, পলিয়েস্টার, ভেজিটেবল ফাইবার ও অ্যানিমেল ফাইবার উৎপাদনে না গিয়ে কটন ফাইবার (প্রাকৃতিক তন্তু) উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।
বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্যে কটনভিত্তিক পোশাকের চাহিদা প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং যৌগিক বাৎসরিক প্রবৃদ্ধির হার (সিএজিআর) হিসেবে এ হার ২০০৭–২০১৭ সময়ে ০.৫ শতাংশ হারে হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ব বাণিজ্যে কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাকের অংশ প্রায় ৪৫ শতাংশ, যা উল্লেখিত একই সময়ে যৌগিক বাৎসরিক প্রবৃদ্ধির হার (সিএজিআর) হিসেবে ৫ শতাংশ হারে বেড়ে চলেছে।
ক্ষুদ্র–মাঝারি শিল্পের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা ও বৃহৎ শিল্পের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ সহায়তা প্যাকেজ বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের মাধ্যমে দ্রুততার সাথে বিতরণ করা হবে বলে বিজিএমইএর আশা। ২০১৭ সালে বিশ্ব বাণিজ্যে কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাকের ব্যবসা ছিলো ১৫০ বিলিয়ন ডলার।

সূত্রঃ আজাদী,শনিবার , ১৩ জুন, ২০২০ …


এই বিভাগের আরো খবর