• শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর ২০২১, ০২:২১ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
শিরোনাম
চট্টগ্রামে টপস্টার গ্রুপে সকল শ্রমিকদের কোভিক-১৯ গন টিকার কর্মসূচি উদ্বোধন চট্টগ্রামস্থ সকল পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কর্মচারীদের গণটিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন। পরিবেশবান্ধব কারখানা ছড়িয়ে দেওয়ার কারিগর-অ্যাবা গ্রুপের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমান মৃধা ধারাবাহিক পর্বের – ০৬, শিক্ষাধীন শ্রমিক- একটি আইনগত বিশ্লেষণ। করোনার টিকা ও কিট চেয়ে দুই রাষ্ট্রদূত ও এক ব্র্যান্ডকে বিজিএমইএ সভাপতির চিঠি পোশাকখাতসহ সব ধরনের রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানাকে বিধিনিষেধের আওতামুক্ত ঘোষণা। শিল্প-কারখানা খুলে দিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন সব শিল্পের মালিকরা। এবার সর্বাত্মক লকডাউনে বন্ধ থাকছে শিল্পকারখানাও স্নাতক পাসে বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি, নেই অভিজ্ঞতার প্রয়োজন Walt Disney to reinstate Bangladesh as a Permitted Sourcing Country

শ্রমিক ছাঁটাই বিষয়ে বিজিএমইএ এর বক্তব্য

rmgnews24
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২০

ডেস্ক রিপোর্ট: ৬ জুন ২০২০ তারিখে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন’ ব্যানারে একটি সংবাদ সম্মেলনের প্রতি বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। বিজিএমইএ মনে করে, বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপিত হয়নি। বিজিএমইএ সভাপতি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষনা দেননি। সংগঠন হিসেবে এ ধরনের ঘোষনা দেয়ার কোন সুযোগও নেই। বিজিএমইএ সভাপতি কর্মসংস্থান হ্রাস পাওয়া এবং সম্ভাব্য শ্রমিক ছাঁটাই বিষয়ে তার গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে বিজিএমইএ এর বক্তব্য নিম্নরূপ।
• চলতি অর্থ বছরের ১ম ৮ মাসে (জুলাই ২০১৯-এপ্রিল ২০২০) পোশাক শিল্পে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক ১৪ শতাংশ, যা শিল্পে গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি।
• ১লা মে-২০ মে’২০ সময়ে শিল্পে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক ৫৫.৭ শতাংশ।
• গত মার্চ’২০ থেকে এ পর্যন্ত পোশাক শিল্পে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেও অধিক ক্রয়াদেশ বাতিল হয়ে গেছে।
• পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজারগুলো কোভিড-১৯ এর প্রভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কোভিড-১৯ এর কারনে অনেক বড় বড় ক্রেতা দেউলিয়াত্বও বরণ করেছে।
• চলমান পরিস্থিতিতে প্রকৃতপক্ষে, কোন কারখানাই সামর্থ্যরে শতভাগ ব্যবহার করতে পারছে না। ৩৫ শতাংশ সক্ষমতায় কারখানা সচল রেখেছে, এমন ঘটনাও আছে। বড় কারখানাগুলোও ৬০ শতাংশের বেশি সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না।
• উল্লেখ্য, চলতি জুনে পোশাক কারখানাগুলো গড়ে ৫৫ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার করে কোনরকমে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখছে। জুলাই পরিস্থিতি এখনই অনুমান করা কঠিন। তবে উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন, সামনের দিনগুলো পোশাক শিল্পের জন্য আরও চ্যালেঞ্জময় হবে।
• ম্যাকেঞ্জির তথ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ প্রভাবে ২০২০ সালে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় বিশ্বের পোশাক বাজারে সেলস রেভিনিউ ৩০% অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পাবে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, চলমান পরিস্থিতিতে, উদ্যোক্তারা টিকে থাকার লড়াইয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বিজিএমইএ এর সদস্যভূক্ত কারখানার মধ্যে ৩৪৮টি কারখানা বন্ধ হয়েছে শুধুমাত্র গত ২ মাসেই। বাকী আছে আর মাত্র ১৯২৬টি কারখানা। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাকী কারখানাগুলো হয় একে একে বন্ধ হয়ে যাবে অথবা কম ক্যাপাসিটি’তে (পূর্ন সামর্থ্য ব্যবহার ছাড়াই) টিকে থাকার চেষ্টা করবে দিন বদলের আশায়। এটাই বর্তমান বিশ্বের রূঢ় বাস্তবতা। আমরা সকলেই দেখছি, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতেও কাজ ও শ্রমিক সংখ্যা বিপুলভাবে কমছে। আমরা শিল্প গড়ি কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য। আজকের এই বাস্তবতা আমাদের উদ্যোক্তাদের জন্যও নির্মম।
এখানে দু’টি বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
১) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সহজ শর্ত ঋণের ৫ হাজার কোটি টাকার পুরোটাই সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাংক একাউন্ট বা MFS একাউন্টে দেয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ্য যে, এ পোশাক খাত প্রতি মাসে মজুরি পরিশোধ করে থাকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার।
২) সমস্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষন করে কারখানা বন্ধ বা সামর্থ্য কমে যাওয়ার (Capacity Reduction) প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের কথা ভেবে বিজিএমইএ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। শুধুমাত্র পোশাকখাতই নয়, সকল খাতেই কর্মসংস্থান হ্রাস পাচ্ছে। বিজিএমইএ একান্তভাবে আশা করে, কোন কারখানা যদি উপরোক্ত পরিস্থিতির শিকার হয়ও, তথাপি মালিক ও শ্রমিক উভয়ই শ্রম আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন।
বিজিএমইএ একান্তভাবে আশা করে, উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে শিল্পের উদ্যোক্তা ও শ্রমিকের স্বার্থে বিজিএমইএ এর বক্তব্য সঠিকভাবে উপস্থাপিত হবে এবং এ কঠিন সময়ে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে শিল্পের পাশে দাঁড়াবেন।
মেজর মোঃ রফিকুল ইসলাম (অবঃ)
ভারপ্রাপ্ত সচিব, বিজিএমইএ


এই বিভাগের আরো খবর