• বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৫২ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
শিরোনাম

ধারাবাহিক পর্বের – ০৬, শিক্ষাধীন শ্রমিক- একটি আইনগত বিশ্লেষণ।

rmgnews24
আপডেট: সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১

(বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ ও বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫ অনুসরনে)

লিখেছেনঃ মোহাম্মদ বাবর চৌধুরী

এই পর্বে সহযোগিতায়ঃ
মোঃ ইমরুল হাসান
এবং মোঃ আফজাল হোসেন রানা

প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক সময় আমরা শিক্ষানবিশ এবং শিক্ষাধীন শ্রমিককে একই শ্রেনীভুক্ত মনে করি, কিন্তু শ্রমিকের এই দুটি শ্রেণী সম্পূর্ণ আলাদা । শিক্ষানবিশ শ্রমিক হচ্ছে স্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি অংশ, যেখানে শিক্ষানবিশ শ্রমিক নিয়োগের পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সন্তোষজনক ভাবে কাজ করলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক শিক্ষানবিশ থেকে স্থায়ী শ্রমিকে পরিনত হয়, পক্ষান্তরে শিক্ষাধীন শ্রমিক হচ্ছে প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষন প্রদানের উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট কর্ম সূচির অধীন নিয়োগ প্রদানকৃত শ্রমিক এবং এই ধরনের শ্রমিক প্রশিক্ষন বা শিক্ষাধীনতা কর্মসূচী শেষ হলে সাধারনত প্রতিষ্ঠানে তাদের চাকরির অবসান ঘটে তবে শিক্ষাধীনতা কাল সমাপ্তির পরে মালিক ইচ্ছা করলে সংশ্লিষ্ট পেশায় সমপর্যায়ের গ্রেডে উক্ত শ্রমিককে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করতে পারেন। শিক্ষাধীন শ্রমিকের মজুরি ও ভাতা, কর্মঘন্টা, নিয়োগ প্রক্রিয়া সহ যাবতীয় বিষয় বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর অষ্টাদশ অধ্যায়ের অধীন নিয়ন্ত্রিত হয়। অনেক সময় পেশাজীবিরা শিক্ষানবিস এবং শিক্ষাধীন শ্রমিকের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারেন না। তাই কর্মপরিবেশে সঠিক নিয়োগ সম্পূর্ণ করতে শিক্ষাধীন শ্রমিক সম্পর্কে পেশাজীবীদের একটি স্বচ্ছ ধারণা থাকা অত্যাবশ্যক। যদিও শিক্ষাধীন শ্রমিকের কাজের প্রকৃতি ও স্থায়ীত্ব সম্পর্কে কোথাও কোন সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা নাই, তথাপি শিক্ষাধীন শ্রমিকের ধরন বিচার-বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বোঝা যায় প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কার্য সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষাধীন শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কার্য দীর্ঘ মেয়াদি প্রশিক্ষনের মাধ্যমে শ্রম আইনের শর্ত সাপেক্ষ নিস্পন্ন করার উদ্দেশ্যে যে শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয় তাকে শিক্ষাধীন শ্রমিক বলে। নিম্নে এ সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হলোঃ

অত্র পর্বে শিক্ষাধীন শ্রমিক সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারনা দিতে আমি আমার একটি গবেষনা পত্রের নির্বাচিত কিছু অংশ নিম্নে তুলে ধরলামঃ

গবেষনা পত্রঃ কর্মী নিয়োগ ও নিয়োগ পত্র (নির্বাচিত অংশ)
প্রকাশকঃ বাবর এন্ড এসোসিয়েটস্

শিক্ষাধীন শ্রমিক (Apprentice Worker)

শিক্ষাধীন শ্রমিকঃ
কোন শ্রমিককে শিক্ষাধীন শ্রমিক বলা হইবে যদি কোন প্রতিষ্ঠানে তাহার নিয়োগ প্রশিক্ষনার্থী হিসাবে হয় এবং প্রশিক্ষনকালে তাহাকে ভাতা প্রদান করা হয়। [বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ৪(২) অনুসারে]

[ব্যাখ্যাঃ
মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা কর্তৃক সরকারী গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর শিক্ষাধীনতা (অষ্টাদশ) অধ্যায়ের উদ্দেশ্য পূরন কল্পে কোন প্রতিষ্ঠানে ঘোষিত শিক্ষাধীনযোগ্য পেশায় কর্মরত শ্রমিককে শিক্ষাধীন শ্রমিক বলে।

এখানে, “শিক্ষাধীন ” অর্থ শিক্ষাধীনতা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহনকারী কোন ব্যক্তি এবং “শিক্ষাধীনতা” বলতে এমন কোন প্রশিক্ষন পদ্ধতি যাহাতে কোন মালিক কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ করিয়া তাহাকে কোন শিক্ষাধীনতাযোগ্য পেশায় বা বৃত্তিতে প্রনালীবদ্ধভাবে পূর্বনির্ধারিত কোন মেয়াদের জন্য প্রশিক্ষন দিতে বা দেওয়ায় ব্যবস্থা করিতে রাজি হন এবং উক্ত মেয়াদকালে উক্ত শিক্ষাধীন ব্যক্তি মালিকের অধীনে চাকুরী করিতে বাধ্য থাকেন।

এখানে উল্লেখ্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে প্রতিষ্ঠানের যে কোন পেশাকে শিক্ষাধীনযোগ্য পেশা ঘোষণা বা উক্ত পেশায় শিক্ষাধীন শ্রমিক নিয়োগ দিতে পারে না; তা একমাত্র উপরোক্ত শর্ত সাপেক্ষে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে।

শিক্ষাধীনতাকালে প্রথম ৩ (তিন) মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাধীন শ্রমিককে যোগ্যতম মনে না হইলে মালিক ইচ্ছা করিলে ১ (এক) সপ্তাহের নোটিস প্রদান করিয়া এবং শিক্ষাধীন শ্রমিকের উক্ত চুক্তির ধারাবাহিকতার ইচ্ছা না করলে মালিককে এক সপ্তাহের নোটিস প্রদান করিয়া (যোগ্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করণসহ) শিক্ষাধীনতার সমাপ্তি ঘটাইতে পারবেন।

ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মোট স্বাভাবিক কর্ম সময়ের অন্তত বিশ শতাংশ সময় শিক্ষাধীন শ্রমিক যাতে প্রয়োজনীয় তাত্ত্বিক শিক্ষা পান তা নিশ্চিত করিবেন। কোন শিক্ষার্থী যে সময়ে তাত্ত্বিক শিক্ষায় যোগদান করিবেন উক্ত সময়ে তাহার বৃত্তি হতে কোন কর্তন করা যাবে না।

ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যোগ্য কর্তৃপক্ষের (মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতা প্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা কর্তৃক) লিখিত অনুমতি ব্যতিরেকে এমন কোন ব্যক্তিকে শিক্ষাধীন হিসাবে নিযুক্ত করিবেন না যিনি অন্য কোন মালিকের অধীন শিক্ষাধীন ছিলেন এবং তিনি তাহা পরিত্যাগ করেছেন অথবা শৃঙ্খলা ভংগের কারনে মালিক কর্তৃক কর্মচ্যুত হয়েছেন।

কোন শিক্ষাধীন শ্রমিক তার শিক্ষাধীনতা চুক্তির শর্ত পালনে ব্যর্থ হন, অথবা যদি শিক্ষাধীনতাকালের কোন সময়ে স্বেচ্ছায় শিক্ষাধীনতা ছাড়িয়া যান, অথবা তাহার প্রশিক্ষণের উন্নতি সম্পর্কে অব্যাহত বিরুপ রিপোর্ট পাওয়া যায়, অথবা অবাধ্যতা, বিধি লংঘন, কাজে অনুপস্থিতি, কর্তব্যে অবহেলা করেন, তাহা হইলে তিনি বা, ক্ষেত্রমত, তাহার পিতা বা অভিভাবক বা জামিনদার এককভাবে অথবা যৌথভাবে বিধি দ্বারা নির্ধারিত ক্ষতিপূরন প্রদান এবং শিক্ষাধীনতা কাজে তাহার জন্য ব্যয়িত অর্থ মালিককে ফেরত দিতে বাধ্য থাকবেন।শিক্ষাধীন শ্রমিকের ক্ষেত্রে সার্ভিস বহি প্রযোজ্য নয় ; তবে প্রত্যেক শিক্ষাধীন শ্রমিককে একটি শিক্ষাধীন কার্ড দেয়া দেয়া হবে,যাহা সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের প্রশিক্ষন ত্যাগের সময় বা স্থায়ী চাকুরী প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ফেরত দিবেন।

সাধারণত শিক্ষাধীন শ্রমিকের বয়স সর্বনিম্ন ১৭ ও অনধিক ৩০ বৎসর এর মধ্যে হবে; তবে পূর্বে চাকুরী করেছে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার ইচ্ছানুসারে উক্ত বয়স সীমা শিথিলযোগ্য। শিক্ষাধীন ব্যক্তির বয়স ১৮ (আঠারো) বৎসরের কম হইলে তার মাতা বা পিতা বা আইনগত অভিভাবক উক্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। শিক্ষাধীনতা কার্যক্রমে শিক্ষাধীন শ্রমিক নির্বাচনের ক্ষেত্রে মহিলা ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে।

শ্রম বিধিমালার নির্দেশনা সাপেক্ষে শিক্ষাধীনতা চুক্তিতে শিক্ষাধীনতার মেয়াদ উল্লেখ থাকিবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাধীন ব্যক্তি পূর্বে কোন সরকারি বা স্বীকৃত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে কিছুকালের জন্য পদ্ধতিগত বৃত্তিমূলক বা কারিগরি প্রশিক্ষন গ্রহন করে থাকলে তার ক্ষেত্রে শিক্ষাধীনতার সময়সীমা আংশিক অব্যাহতি প্রদান করা যাবে তবে কোন ক্ষেত্রে উক্ত মেয়াদ মোট সময়সীমার অর্ধেকের অধিক হবে না।

শিক্ষাধীনতা ভাতাঃ
(১) শিক্ষাধীনতার সময়কালে মালিক নিন্মবর্নিতভাবে শিক্ষাধীন ব্যক্তিকে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক শিক্ষাধীনতা ভাতা প্রদান করিবেন,যথাঃ- (ক) শিক্ষাধীনতার সময়কালে মালিক নিন্মবর্নিতভাবে শিক্ষাধীন ব্যক্তিকে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক শিক্ষাধীনতা ভাতা প্রদান করিবেন, যথাঃ- (ক) শিক্ষাধীনতার প্রথম বৎসর; সংশ্লিষ্ট পেশার সমপর্যায়ের গ্রেডে নিযুক্ত দক্ষ শ্রমিকের সাকুল্য মজুরির শতকরা ৫০ (পঞ্চাশ) ভাগ; (খ) শিক্ষাধীনতার দ্বিতীয় বৎসরঃ সংশ্লিষ্ট পেশার সমপর্যায়ের গ্রেডে নিযুক্ত দক্ষ শ্রমিকদের সাকুল্য মজুরির শতকরা ৬০(ষাট) ভাগ এবং শিক্ষাধীনতার তৃতীয় বৎসরঃ সংশ্লিষ্ট পেশার সমপর্যায়ের গ্রেডে নিযুক্ত দক্ষ শ্রমিকের সাকুল্য মজুরির শতকরা ৭৫(পচাত্তর)ভাগ। শিক্ষাধীনতা প্রশিক্ষণের সময়সীমা ৩(তিন) বৎসরের অধিক হইলে তৃতীয় বৎসরের পর শিক্ষাধীনতার ভাতার হার সংশ্লিষ্ট পেশার সমপর্যায়ের গ্রেডে নিযুক্ত দক্ষ শ্রমিকের সাকুল্য মজুরির সমান হবে।

এখানে উল্লেখ্য যে একজন শিক্ষাধীন ব্যক্তিকে ফুরনভিত্তিক কাজের হিসেবে ভাতা প্রদান করা যাইবে না।

শ্রমবিধির অন্যান্য উপবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, একজন মালিক যেকোন শিক্ষাধীন ব্যক্তিকে কোন উত্তম অগ্রগতির জন্য স্বেচ্ছায় তাহাকে উচ্চতর হারে ভাতার বা অন্যান্য পুরষ্কার প্রদান করতে পারবেন।

প্রশিক্ষনের পরবর্তী উচ্চতর শ্রেণী বা ধাপে উন্নীত না হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে শ্রেণি বা ধাপে রহিয়াছেন সেই শ্রেণি বা ধাপের জন্য নির্ধারিত হারে ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং শিক্ষাধীনতা কাল সমাপ্তির পরে মালিক ইচ্ছা করলে সংশ্লিষ্ট পেশায় সমপর্যায়ের গ্রেডে উক্ত শ্রমিককে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করতে পারবেন।

কাজের ঘন্টা, ছুটি ও বন্ধঃ
শিক্ষাধীন ব্যক্তির কাজের ঘন্টা(বাৎসরিক বা অর্জিত ছুটি ব্যতীত) ও বন্ধ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চাকুরিতে নিযুক্ত অন্যান্য শ্রমিকের অনুরুপ হবে এবং আইন ও এই বিধিমালা মোতাবেক উহা নিয়ন্তিত হবে। কোন শিক্ষাধীনতা কর্মসূচিতে শিক্ষাধীন ব্যক্তির জন্য অতিরিক্ত সময় কাজের ব্যবস্থা থাকবে না।

প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহঃ
প্রত্যেক শিক্ষাধীন ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ গ্রহনের জন্য প্রয়োজনীয় সরজ্ঞামাদি কারখানার পোশাক, যন্ত্রপাতি, বই-পুস্তক, ড্রইং সরন্জাম, কাচামাল প্রভৃতি বিনামূল্যে সরবরাহ করতে হবে এবং এইসব দ্রব্যাদি মালিকের সম্পত্তি বলিয়া বিবেচিত হইবে।

শিক্ষাধীনের বদলিঃ

একজন শিক্ষাধীন ব্যক্তিকে প্রশিক্ষনের সুবিধার জন্য এক মালিকের প্রতিষ্ঠান হতে অন্য মালিকের শিক্ষাধীনতা পেশায় বদলি করা যাবে এবং এ ধরনের বদলির ক্ষেএ এ গ্রহণকারী মালিকের এবং শিক্ষাধীন ব্যক্তির সম্মতি থাকিতে হবে।

মেয়াদপূর্তির পূর্বে শিক্ষাধীনতা প্রশিক্ষনের অবসানঃ
কোন শিক্ষাধীনতার প্রশিক্ষণ যোগ্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে নির্দিষ্ট তারিখের পূর্বেই শেষ করা যাবে, যদি কোন যুক্তিসংগত কারনে শিক্ষাধীনতা সংক্রান্ত আইন, বিধিমালা ও চুক্তির শর্তাদি মানিয়া চলিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগন অপারগ হন।

পেশা পরিবর্তনঃ
শিক্ষাধীনতা প্রশিক্ষনের স্বার্থে কার্যক্রম পরিবর্তন প্রয়োজন হলে কেবল যোগ্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে একজন শিক্ষাধীন ব্যক্তির মূল কার্যক্রম পরিবর্তন করা যাবে।

বিরোধ নিষ্পত্তি:
প্রশিক্ষন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মালিক বা শিক্ষাধীন ব্যক্তির মধ্যে কোন সময় বিরোধ উৎথাপিত হলে উহা যোগ্য কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করতে হবে এবং সেই বিষয়ে যোগ্য কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

“সমাপ্ত”

 


এই বিভাগের আরো খবর