• রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English

পেনশন ভোগী কবে হবে পোশাক শিল্পের সাথে জড়িতরা? লিখেছেন- এম.এ মান্নান পাভেল

rmgnews24
আপডেট: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২০

জন্ম নিলে মৃত্যু হবে এটা অবধারিত, সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে জীবনধারেনর জন্য অর্থ উপার্জনের কোন বিকল্প নেই। প্রতিনিয়ত দেশে বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সে হারে চাকুরীর সংস্থান আমাদের দেশে নেই এটাও সত্য। আজ থেকে বিশ বছর পূর্বে যখন কেউ গার্মেন্টসে কাজ করে বলতো তখন সমাজের সকল লোক বাঁকা চোখে দেখতো। বলতো লেখাপড়া শিখছে, কিসের লেখাপড়া শিখছে, লেখাপড়া শিখলে কি আর গার্মেন্টসে কাজ করে? এরকম হাজারো তীর্যক তীর্যক কথা। যে কথার উত্তর দিতে চেয়েও সেসময় অনেকেই বা কেউই কোন প্রতিউত্তর করেনি। শুধু মুখ বুঝে সহ্য করে গেছে আর মনে মনে ভেবেছে এমন একদিন আসবে যেদিন গার্মেন্টসে চাকুরী করার জন্য হাজারো মানুষ এক প্রতিষ্ঠানের গেইট হতে আর এক প্রতিষ্ঠানের গেইটে ঘুড়বে, এমবিএ, বিবিএ করা শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা সিভি ড্রপ করতেই থাকবে আর আশায় থাকবে কখন তাকে ইন্টার্ভিউতে ডাকে। সত্যি সে সময় এসেছে, কিন্তু গার্মেন্টসে যারা চাকুরী করে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি করছে তাদের ভাগ্যের কতটুকু পরিবর্তন হয়েছে? তারা কতটুকু সরকারের নিকট হতে সহায়তা পাচ্ছে? কতটুকু সামাজিক মর্যাদা পাচ্ছে?

 

অভাবের তাড়নায় যখন একজন কিশোর কিংবা কিশোরী সংসারের হাল ধরার জন্য গার্মেন্টসে কাজ নেয়, তখন তার বয়স আর কতই বা হয়? দিনরাত খাটুনী খেটে একটি খুপড়ি ঘড়ে গাদাগাদি করে কয়েকজন মিলে থাকে তারপর মাস শেষে যখন বেতন পায় তখন দেখে খাবার বিল, মেস ভাড়া দিয়ে মায়ের কিংবা বাবার ওষুধ কিনার টাকা নেই? নিরবে চোখের পানি ফেলে অথবা কারো কাছ হতে ধার করে বেতন পেলে আবার পরিশোধ করে। এভাবেই চলতে থাকে তাদের জীবন। সময়ের চোরা স্রোতে এমনভাবে চলতে চলতে কখন যে বার্ধক্য এসে পড়ে সে আর অনুধাবন করতে পারেনা। ঠিকভাবে কাজ করতে পারেনা, মেশিনে সুতা পড়াতে পারেনা কারন তার চোখের আলো কমে গেছে। কিশোর বয়সে সংসারের হাল ধরতে গার্মেন্টসে কাজ করতে আসা কিশোরটিকে আজ বার্ধক্য ঘায়েল করে ফেলেছে। তাই তাকে আর প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন নেই। বিদায় করে দাও, এসব বয়ষ্ক লোক কিভাবে কাজ করে, এধরনের অনেক কথা, বিদায় করার সময় আবার কিছু নেই,, খালি হাতে চলে যেতে হয়। কিন্তু যে মানুষটি তার জীবন যৌবন অতিক্রম করলো এ শিল্পে যাওয়ার সময় কি তার কোন পাওনা নেই?
একজন সরকারী চাকুরীজীবি একটি নির্দিষ্ট সময় পর চাকুরী হতে স্বেচ্ছায় আবার অনেকেই সরকারী চাকুরীর মেয়াদ শেষ করে অবসরে যান। অবসরের সময় এককালীন টাকা সহ থাকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা এবং পেনশনতো আছেই। কিন্তু পোশাক শিল্পে কর্মরত মানুষগুলো দিনরাত পরিশ্রম করে দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা বজায় রেখে চলেছে কিন্তু তাদের কেন অবসরের সুবিধা নেই? কেন পেনশনের সুবিধা নেই? সে কি অবসর কালীন সময়ে একটু শান্তি কামনা করতে পারে না? অনেকেই বলবে যারা পোশাক শিল্পে কাজ করে তারা কেউ একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কাজ করেনা যে তারা অবসরের সুবিধা পাবে? আমি তাদের সাথে একমত নই কারন সরকারী চাকুরীজীবিরাও কোন জায়গায় দীর্ঘদিন কাজ করেন না,তারাও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জেলা, থানায় বদলী হয়ে যান। তাদের সার্ভিস বইয়ে সকল তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে। আমাদের পোশাক শিল্পের সকলের জন্যও সার্ভিস বই আছে। সার্ভিস বইয়ের একটি কপি প্রতিষ্ঠানে, একটি বিজিএমইএ, বিকেএমইএ কিংবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কোন শাখায় সংরক্ষণ করা যেতে পারে। প্রতিটি শ্রমিকের সকল তথ্য সেখানে লিপিবদ্ধ থাকবে। অবসরে যাওয়ার সময় তার সকল হিসাব নিকাশ বিজিএমইএ, বিকেএমইএ কিংবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শাখায় কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন করত: পেনশনের আওতাভূক্ত করতে পারেন।
যে শিল্প আজ দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতায় সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে আর কতকাল এ শিল্পের সাথ জড়িত মানুষগুলো থাকবে অসহায়। সরকার এবং এ শিল্পের সাথে জড়িত সংস্থাগুলোর একটু সদিচ্ছা থাকলেই সম্ভব অবসরকালীন সময়ে তাদের ভাল রাখার বন্দোবস্ত করা। সেদিনের অপেক্ষায় যেদিন এ শিল্পের মানুষগুলো পেনশনের আওতায় আসবে, চিন্তামুক্ত থাকবে শেষ বয়সে কিভাবে চলবে তা নিয়ে না ভেবে?

লিখেছেন-

এম.এ মান্নান পাভেল

এইচ.আর প্রফেশনাল এবং ট্রেইনার

 

 


এই বিভাগের আরো খবর