• বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English

রেফারেন্স বিহীন চাকরি হয় না-লিখেছেনঃ নূরে এ.খান- নির্বাহী পরিচালক, নাসা গ্রুপ

rmgnews24
আপডেট: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০

রেফারেন্স বিহীন চাকরি হয় না!!!

আমাদের জেনারেল একটা কমপ্লেইন যে রেফারেন্স ছাড়া চাকরি হয় না!! সত্যি কথা বলতে কি জানেন, যতগুলো নেগেটিভ বিষয় আমাদের জব মার্কেটে প্রচলিত আছে, তার প্রত্যেকটির পিছনের কাহিনী অত্যন্ত তিক্ত এবং কারণ সম্বলিত। আপনি-আমি প্রশ্ন করতেই পারি যে, এটা কেন হচ্ছে, এমন কেন হচ্ছে বা এগুলো কেন হয় ইত্যাদি ইত্যাদি।
কিন্তু যে বা যারা এই বিষয়গুলোর বা অভিজ্ঞতাগুলোর শিকার তারাই কেবল জানেন এর পিছনের কাহিনি কতটা বিরক্তকর এবং কষ্টকর।
আলোচনা যদি করতে চাই তাহলে সেখানেও নিজ থেকেই বাধা-বিপত্তি আসে যে.. করেই বা লাভ কি‌‌?
কারণ আমাদের দেশের সবচেয়ে সহজলভ্য বিষয় হচ্ছে, বুদ্ধি পরামর্শ এবং বস্তাভর্তি পরামর্শ জ্ঞানগর্ভ আলোচনা বা আলোকপাত।।।
তারপরও চেষ্টা করছি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে উপরোক্ত বিষয়টি নিয়ে দু’একটি কথা বলতে….
আমি গত কয়েকদিন আগে একটি গ্রুপ অব কোম্পানির কয়েকটি পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি… আজকে সকালে জানতে পেলাম সেখানে প্রায় ১৩৬০ খানা অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়েছে একটি জবের বিপরীতে, কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এই একটি পদের জন্য এতগুলো সিভি যখন বাছাই করতে শুরু করল তখন দেখা গেল মাত্র দুটো সিভিতে রিলেভেন্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে তাও ম্যানেজার বা ব্যবস্থাপক পদের জন্য যথেষ্ট নয়!!!!
এখন আপনি নিজ থেকে একটু ভাবুন যে, যে ব্যক্তিটি গতকাল এবং আজকে হাজারের অধিক সিভি আলাদাকরণ করেছে একটি নির্দিষ্ট পদের বিপরীতে, তিনি কতটা কষ্ট করে প্রতিটি অ্যাপ্লিকেশনকে পড়ে বিশ্লেষণ করলেন ইন্টারভিউর বা সাক্ষাতের জন্য, তা তো পারলো না উপরন্তু কষ্ট বিরক্ত।
আমাদের ন্যূনতম প্রফেশনালিজম বা এপ্লিকেশন করার বা জব সিলেক্ট করার দক্ষতা কতটা নিম্নমানের, প্রশ্ন আপনাদের কাছে থাকল???

অনেকেই অনেক যুক্তি দিতে পারবেন বা উত্তর দিতে পারবেন বা পাল্টা প্রশ্ন করতে পারবেন কিন্তু ভাবুন তো যে আমাদের শিক্ষা এবং আমাদের বিবেচনা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, যেখানে একটি ব্যবস্থাপক পদের বিপরীতে এক হাজারেরও বেশি অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়েছে ফ্রেশ যারা কোনোদিন কোনো চাকরি করেনি এবং প্রত্যেকেরই এমবিএ ডিগ্রি রয়েছে খুবই উঁচু মানের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, যার বিনিময়ে তাদের শতভাগ বিশ্বাস যে তারা যোগ্য কিন্তু ছাত্র কাউন্সেলিং বিভাগ থেকে তাদের শিক্ষা দেওয়া হয়নি যে কে কোন ধরনের জব সিলেক্ট করবে এবং কিভাবে করবে এবং কোথা থেকে শুরু করবে বা কোন লেভেলের জবে কি কি ধরনের যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন!!??
ফলাফল হচ্ছে দ্রুত এবং সর্টকাটে লোক প্রয়োজন হলে ফোন করে বা কারো না কারো মাধ্যমে নিয়ে নেওয়াটা কি ঝামেলামুক্ত এবং সঠিক মনে করা হয়…..
এবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানে কলেজের একটি ছোটগল্প আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই… আমি যখন ঢাকা সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী ছিলাম অর্থাৎ দ্বিতীয় বর্ষের শেষ ক্লাসের দিন আমার প্রিয় শিক্ষক জনাব আরেফিন সিদ্দিকী তিনি ক্লাসের পুরো সময়টি পরীক্ষা-পদ্ধতি এবং উত্তর দেওয়ার টেকনিক বা খাতায় কোন প্রশ্নের উত্তর কিভাবে লিখতে হবে, কোন বিষয়ের সুনির্দিষ্ট কিছু মনে না থাকলে সেটাকে কি করে কৌশলে উত্তর লিখতে হবে সৃজনশীলতার মাধ্যমে ইত্যাদি ইত্যাদি। আরো বললেন যে সারা বাংলাদেশে একই পাঠ্যসূচি পড়ানো হয় শুধুমাত্র প্রেজেন্টেশনের কারণে অর্থাৎ উত্তরপত্রে সুন্দরভাবে উপস্থাপনার তারতম্যের কারণে বেশিরভাগ ছাত্র ছাত্রী তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না। ফলাফল আপনারা সবাই জানেন তারপরও বলছি আমাদের ওই ব্যাচে ঢাকা বোর্ডের ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ২০ স্ট্যান্ডের মধ্যে আমাদের কলেজ থেকেই ১৭ জন স্ট্যান্ড মার্ক পেয়েছিল!!!

নোট: শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলছি শুধুমাত্র কাগুজে সর্বোচ্চ ডিগ্রী বা সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি আপনাকে সফল করাতে পারবে না, যতক্ষণ না আপনি নিজেকে আপডেট করেন!!!
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে অনুরোধ করছি আপনাদের ছাত্রদের গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ এবং জব মার্কেটের সাথে এলাইন হবার জন্য আধুনিক এবং যুগোপযোগী ছাত্র কাউন্সিলিং বিভাগকে তৈরি করতে হবে!!!

লিখেছেনঃ নূরে এ. খান
নির্বাহী পরিচালক,নাসা গ্রুপ
এবং লিডার অব আর.এম.জি প্রফেশনাল’স


এই বিভাগের আরো খবর