January 25, 2021, 7:11 pm

Notice :
এই অনলাইন সংবাদপত্রটি ,আর এম জি সেক্টরের উদ্যোক্তা, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের নিয়েই আমাদের এই পত্রিকা। আর.এম.জি নিউজ ২৪ একটি সত্য বস্তুনিষ্ট অনলাইন সংবাদপত্র। এইটি আপনাদেরই সংবাদপত্র এবং আপনাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আপনাদের সফলতার গল্প নতুনদের এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাংলা অনলাইন জগতে আর.এম.জি সেক্টরের সকল দিক তুলে ধরার প্রচেষ্টা নিয়ে আমাদের সূচনা। তাই আমাদের সাইট ভিজিট করুন ও নিজেরাই মূল্যায়ণ করে আপনাদের মতামত তুলে ধরুন- সম্পাদক (আর.এম.জি নিউজ ২৪)
News Headline's :
চট্টগ্রামে টপ ষ্টার গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পোশাক খাতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা সিভির কাভার লেটার কেমন হওয়া উচিত?-রিয়াদ মোঃ আরেফিন পেনশন ভোগী কবে হবে পোশাক শিল্পের সাথে জড়িতরা? লিখেছেন- এম.এ মান্নান পাভেল রেফারেন্স বিহীন চাকরি হয় না-লিখেছেনঃ নূরে এ.খান- নির্বাহী পরিচালক, নাসা গ্রুপ সাময়িক শ্রমিক – একটি আইনগত বিশ্লেষণ (ধারাবাহিক পর্বের- ৫ম পর্ব) মানুষের মন জয় করার অসম্ভব ক্ষমতা ছিল এমদাদ ভাইয়ের-সম্পাদকীয় কলাম সহকর্মী ও অধীনস্তদের প্রতি সহনশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন- নাসির মাহমুদ পারভেজ প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ, সমস্যা ও সম্ভাবনা (ধারাবাহিক পর্বের- ৪র্থ পর্ব) ঈদ উল আযহা উপলক্ষে ইকোটেক এনভায়রনমেন্টাল সলিশনের শুভেচ্ছা

সহকর্মী ও অধীনস্তদের প্রতি সহনশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন- নাসির মাহমুদ পারভেজ

প্রায় প্রতিদিনিই সোশাল মিডিয়ার বদৌলতে , অনেকেই তাদের কষ্ট ও চাকুরীকালীন কি কি সমস্যার সম্মূখীন হচ্ছেন তা শেয়ার করছেন। সবচেয়ে বড় যে বিষয় টি আমার নজর কেড়েছে , তা হল , বেশিরভাগই , তাদের সিনিয়রদের ব্যাপারে আলোচনা, স্যার আমার ম্যানেজার আমাকে, কোন কাজ শিখান না , আর সবসময় বকাঝকা করেন ইত্যাদি ইত্যাদি । এখানে আমি আমার চাকুরী কালীণ সময়ের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি।

আমি তখন একটি স্বনামধন্য গার্মেন্টস এর মানব সম্পদ , প্রশাসন ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের প্রধান ছিলাম। আমার টিম এ একাউন্টস সহ মোট 12 জন ছিল। প্রতিমাসের 10 তারিখ বেতন দেওয়া হত। নিয়ম অনুযায়ী বেতন দেওয়ার 2/3 দিন আগে স্যালারি শিট এ সাইন করতাম। ওই মাসে প্রতিদিন ই কোন না কোন অডিট থাকার কারনে সবাই অনেক ব্যস্ত ছিল। তাই 9 তারিখ সকালে যখন সহকারী ম্যানেজার , সেলারী শিট নিয়ে আসল , আমি সাইন করতে গিয়ে , চোখ কপালে উঠল , বিরাট ভূল , উল্লেখিত মাসে শ্র্রক্রবার ছাড়াও 1 দিন সরকারী ছুটি ছিল , যা হিসাবে আসে নাই, 3293 জন শ্রমিক। কিছুক্ষন নীরব হয়ে বসে ছিলাম কারন একদিনের নোটিশে এত গুলো কারেকশন ও প্রিন্ট করা সম্ভব না। তারপর কম্পিউটার এ একটি দরখাস্থ লিখলাম, যে এ ভূলের সম্পূর্ন দায়িত্ব আমার এবং আমি এর জন্য ক্ষমা প্রার্থী। এই দরখাস্ত নিয়ে , ডিরেক্টর স্যার এর কাছে যাই, আমার টিম এর কাউকে কিছু বলি নাই, শুধু সহকারী ম্যানেজার দেখছিল , আমি কি করছিলাম। ডিরেক্টর স্যার আমাকে বললেন সব কিছু শুনার পর , ভূল হতেই পারে, কিন্তু এখন ফ্যাক্টরি সামলাবেন কি ভাবে , আপনি সামলালে আমাদের কোন সমস্যা নাই। আমি ডিরেক্টর স্যার কে কথা দেই কোন সমস্যা হবে না 2 দিন পরে বেতন দিলে। স্যার কে সব কিছু শেয়ার করে আমি আমার রুমে এসে দেখি , আমার পুরো টিম মাথা নীচু করে দাড়ানো , আমাকে সবাই এক সঙ্গে বলল , স্যার আমাদেরকে মাফ করবেন, ভবিষ্যতে আমরা এই সব বিষয়্ আরো মনোযোগী হব। ওই একদিনের ঘটনায় পুরো টিম আমার প্রতি যতটুকু আন্তরিক হইছে , ঠিক তেমনি কাজের দিক থেকে সব সময় সাবধানতা অবলম্বন করত।

যে ভাবে দেরিতে বেতন দেওয়ার বিষয় টি সমাধান করলাম :

 

আমি প্রথমে পি, এম, ফ্লোর ম্যানেজার , ফিনিশিং ম্যানেজার, কাটিং ম্যানেজার, মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার , এর সাথে মিটিং করি । এরপর সকল লাইনচিফ , সুপাভাইজার ও কোয়ালিটি কোন্ট্রলারদের সাথে মিটিং করি। সবার কাছেই মূল সত্যিইটা তুলে ধরি। তারা বলল যে , স্যার আমরা বলবো স্যালারি শিটে বেতন কিছু কম আসছে , কিন্তু তারা বেতন বেশি পাবে , তাই নতুন করে স্যালারি শিট ঠিক করতে 2 দিন সময় লাগবে। সন্ধ্যার ছুটির আগে তারা সব কিছু ম্যানেজ করবে এই ভাবে কথা হল। আল্লাহর হুকুম , ওই দিন , 7/8 জন ভাইরাস এবং পন্ডিত শ্রমিক (যা সবখানেই বিদ্যমান) ছাড়া বাকি সবাই এক বাক্যে 12 তারিখ বেতন মেনে নেয়। যাই হোক ওই দিন আমি , আর টিম এর সবাই রাত্রে অফিস এ ছিলাম , সারারাত এই হিসাব ঠিক করে ভোর বেলা ফজরের আযানের কিছু আগে সবাই যার যার বাসায় যাই। সেদিন ডিরেক্টর স্যার বাসায় গিয়ে , উনার ব্যক্তিগত একটি নোহা আছে, সেটা ফ্যা্ক্টরি তে পাঠিয়ে দেন আমাদের জন্য ।যাওয়ার আগে আমাদের বার বার প্রশ্ন করছিলেন বাইরে থেকে খাবার এনে দিবেন কি না ??? এই আন্তরিকতা আপনি আপনার কাজ ও সততা দিয়েই পাবেন। যাই হোক 12 তারিখ বেতন দেওয়ার কথা ছিল , আল্লাহর হুকুম 11 তারিখে বেতন ক্লিয়ার।

এগুলো আপনি তখনই করতে পারবেন যখন আপনার সবার সাথে একটি আন্তরিক বন্ধন থাকবে । আমাদের অনেক উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিরা তো আবার এ,সি রুম থেকে বের হতে চান না , ফ্লোরে যেতে চাননা । এভাবে আপনি শুধু সহকর্মীদের কাছ থেকে শুধু দুরেই সরতে থাকবেন। তাই আবারো বলছি , অনুরোধ করছি , আপনার সহকর্মী ও সহযোগীদের সহিত সহনশীল ও বন্ধুসূলভ আচরন করুন। আপনি শুধু গাইড করবেন আর ওরা পুরো ফ্যাক্টরি , বায়ার অডিট সব কিছু সামলে নিবে।

 

এখন , সিনিয়ররা কিছু শেখান না এই বিষয় কিছু আলোকপাত করছি : –

 

সব সিনিয়ররা যে শেখান না সে রকম না। হয়ত 2/4/5 জন সিনিয়র আছে যারা অধীনস্তদের শেখানোর ব্যাপারে উদাসীন। একটি বিষয় সকলকে মাথায় রাখতে হবে , গার্মেন্ট সেক্টরে সময় বের করা একটি বড় বিষয়, অনেক সিনিয়র চাইলেই তা পারেন না সময়ের কারনে , আর এখন বেশির ভাগ জায়গাতেই প্রতিদিন কোন না অডিট আছেই , অনেক ফ্যাক্টরিতে আবার দিনে 2/3 টা অডিট ও থাকে। তাই এই সকল বিষয় মাথায় রাখতে হবে। আপনি সিনিয়র এর সাথে থাকুন উনাকে অনুসরন করুন। নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে থাকুন দায়িত্ব নিয়ে কারন কেউ আপনাকে কাজ করার জন্য বলবে না , আপনি বসে থাকবেন তো আপনি পিছিয়ে থাকবেন । পরিশেষে স্যার এ পি জে আবুল কালাম এর একটি বক্তব্য দিয়ে শেষ করছি ।

LOVE YOUR JOB

DO NOT LOVE YOUR COMPANY

BECAUSE YOU DON’T EVEN KNOW

WHEN THE COMPANY STOPS LOVING YOU

বি: দ্র : এখানে আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু শেয়ার করার চেষ্টা করেছি, কাউকে আঘাত বা ছোট করার জন্য নয়। ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন।

লিখেছেন

নাসির মাহমুদ পারভেজ

এইচ.আর প্রফেশনাল এবং ট্রেইনার

স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে


     আর সংবাদ পরতে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



আর্কাইভ