January 25, 2021, 8:15 pm

Notice :
এই অনলাইন সংবাদপত্রটি ,আর এম জি সেক্টরের উদ্যোক্তা, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের নিয়েই আমাদের এই পত্রিকা। আর.এম.জি নিউজ ২৪ একটি সত্য বস্তুনিষ্ট অনলাইন সংবাদপত্র। এইটি আপনাদেরই সংবাদপত্র এবং আপনাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আপনাদের সফলতার গল্প নতুনদের এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাংলা অনলাইন জগতে আর.এম.জি সেক্টরের সকল দিক তুলে ধরার প্রচেষ্টা নিয়ে আমাদের সূচনা। তাই আমাদের সাইট ভিজিট করুন ও নিজেরাই মূল্যায়ণ করে আপনাদের মতামত তুলে ধরুন- সম্পাদক (আর.এম.জি নিউজ ২৪)
News Headline's :
চট্টগ্রামে টপ ষ্টার গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পোশাক খাতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা সিভির কাভার লেটার কেমন হওয়া উচিত?-রিয়াদ মোঃ আরেফিন পেনশন ভোগী কবে হবে পোশাক শিল্পের সাথে জড়িতরা? লিখেছেন- এম.এ মান্নান পাভেল রেফারেন্স বিহীন চাকরি হয় না-লিখেছেনঃ নূরে এ.খান- নির্বাহী পরিচালক, নাসা গ্রুপ সাময়িক শ্রমিক – একটি আইনগত বিশ্লেষণ (ধারাবাহিক পর্বের- ৫ম পর্ব) মানুষের মন জয় করার অসম্ভব ক্ষমতা ছিল এমদাদ ভাইয়ের-সম্পাদকীয় কলাম সহকর্মী ও অধীনস্তদের প্রতি সহনশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন- নাসির মাহমুদ পারভেজ প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ, সমস্যা ও সম্ভাবনা (ধারাবাহিক পর্বের- ৪র্থ পর্ব) ঈদ উল আযহা উপলক্ষে ইকোটেক এনভায়রনমেন্টাল সলিশনের শুভেচ্ছা

প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ, সমস্যা ও সম্ভাবনা (ধারাবাহিক পর্বের- ৪র্থ পর্ব)

প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ, সমস্যা ও সম্ভাবনা- একটি আইনগত বিশ্লেষণ

 

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই ব্যবসায়ের জগতে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব এবং সুনাম ধরে রাখার পাশাপাশি অধিক মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরণের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। উক্ত পরিকল্পনা অনুসারে প্রতিনিয়ত চেষ্ঠা করেন কিভাবে প্রতিষ্ঠানের ব্যয় কমিয়ে অধিক মুনাফা অর্জন করা যায়। প্রতিষ্ঠানের চলমান ব্যয় কমানোর অন্যতম উপাদান মানব সম্পদের সঠিক ও সর্বোত্তম ব্যবহার। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ উৎপাদানের উপকরণ (কাঁচা মাল) কেনার ক্ষেত্রে যেমন সাশ্রয় করতে চায়, তেমনি উৎপাদনের উপকরণ হিসেবে শ্রম কেনার ক্ষেত্রেও সাশ্রয় করতে চায়। শ্রম কেনার ক্ষেত্রে সাশ্রয় করার বিষয়টা একটু জটিল; কেননা শ্রমের যোগান দাতা শ্রমিক হতে শ্রমকে যেমন আলাদা করে দেখার সুযোগ নাই তেমনি শ্রম নিতে শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে কতিপয় আইনগত শর্ত পালন অত্যাবশ্যক।

অনেক প্রতিষ্ঠান স্বল্প ব্যয়ে শ্রমিক নিয়োগে করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগে উৎসাহ বোধ করেন। এধরনের ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়া ও পরবর্তী কর্ম পরিবেশে যথাযথ আইনগত শর্ত পালন না করলে এই অস্থায়ী শ্রমিক একটা সময় পর নিজেকে স্থায়ী শ্রমিক বলে দাবী করতে পারে। অনেক সময় এধরনের দাবী প্রতিষ্ঠা করতে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক শ্রম আদালতের আশ্রয় নিতে দেখা যায়।

তাই এই ধরণের বিব্রতকর পরিস্থিতি রোধ কল্পে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অস্থায়ী শ্রমিক কি? কখন এর নিয়োগ দেয়া যায় এবং প্রতিষ্ঠানে এর কার্যাবলী কি? এ সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারনা থাকা অত্যাবশ্যক।

অত্র লিখায় অস্থায়ী শ্রমিক সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারনা দিতে আমি আমার একটি গবেষনা পত্রের নির্বাচিত কিছু অংশ নিম্নে তুলে ধরলামঃ

গবেষনা পত্রঃ কর্মী নিয়োগ ও নিয়োগ পত্র (নির্বাচিত অংশ)

কর্মীর শ্রেনী বিন্যাস করন সূত্রঃ “কর্ম হইতে কর্মীর উৎপত্তি”
প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগের সময় সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরন করে সঠিক শ্রেণীর কর্মী নিয়োগ করতে হয়। কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে শ্রম আইন এবং উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ গুলো পর্যালোচনায় দেখা যায় সকল নিয়োগ এবং নিয়োগকৃত কর্মীদের শ্রেণী বিন্যাস কর্মকে ভিত্তি ধরে করা হয়েছে। তাই আমি কর্মীর শ্রেনী বিন্যাস নির্ধারণে কর্মকে ভিত্তি ধরে একটি সূত্র নির্ধারণ করেছি, সূত্রটি কর্মী নিয়োগের সময় বা কর্মরত কর্মীর শ্রেণী নির্নয়ে মনে রাখতে হবে এবং উক্ত সূত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রশ্নের উত্তর খুজতে হবে।
সূত্রটি যদি আমরা যথাযথ ভাবে ব্যবহার করতে পারি তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্ম সম্পাদনে সঠিক শ্রেণীর কর্মী নিয়োগ দিতে এবং কর্মরত কর্মীদের সঠিক শ্রেণী নির্নয় করতে পারব। আমার নির্ধারিত সূত্রটি হচ্ছে “কর্ম হইতে কর্মীর উৎপত্তি “। এই উক্তিটি আমাদের অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগে এবং তার কার্য নির্ধারনের ক্ষেত্রে সূত্র হিসাবে মনে রাখতে হবে এবং ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে হবে।
নিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদেরকে দেখতে হবে কি ধরনের কার্য সম্পাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হবে। প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্মটি অস্থায়ী ধরনের কিনা? নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উক্ত কর্ম শেষ হবে কিনা? এধরণের আরো অনেক বিষয়ের উত্তর খুঁজতে হবে। নিন্মে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুসারে অস্থায়ী শ্রমিকের কাজ এবং নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বিষদ তুলে ধরা হল।

অস্থায়ী শ্রমিকের কাজঃ
একজন অস্থায়ী শ্রমিক প্রতিষ্ঠানে দক্ষ, অদক্ষ, কায়িক, কারিগরি, ব্যবসা উন্নয়নমূলক অথবা কেরানীগিরি কর্ম সম্পাদন করে থাকেন। প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা ও কর্ম বিভাজন তত্ত্বের আলোকে চিন্তা করলে এধরনের কর্মকে প্রতিষ্ঠানের নিম্নস্তরের কর্ম বলে। এ ধরনের কর্ম কর্মী নিজের শ্রম, মেধা, প্রজ্ঞা দিয়ে অন্যের তত্বাবধান ও নির্দেশনায় সম্পাদন করে। অস্থায়ী শ্রমিকের কার্যের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কোন কার্য অন্তর্ভুক্ত নয়, যেমন প্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারণ ও কৌশলগত পরিকল্পনা প্রনয়ণ ও বাস্তবায়ন, শ্রমিক বা কর্মচারীদের নিয়োগ, বেতন ও ভাতাদি নির্ধারণ, চাকুরির অবসান বা চাকুরি হইতে অপসারণ, চূড়ান্ত পাওনাদি পরিশোধ এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যয় অনুমোদন বা কাজের নিয়ন্ত্রণ, কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের কোন শাখার কোন কাজের বা সেবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন, কাজের পরিধি নিয়ন্ত্রন, বাস্তবায়ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, কাজের মূল্যায়ন বা পর্যালোচনা, শ্রমিকদের দিক নির্দেশনা প্রদান বা তদারকি করা ইত্যাদি।

কাজের প্রকৃতি ও স্থায়িত্বকে ভিত্তি ধরলে অস্থায়ী শ্রমিকের কর্ম হবে নিম্নরূপঃ
যে সব প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করা হয়, নির্দিষ্ট সময় পর উক্ত ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে; সে সব প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ের কাজ অস্থায়ী কাজ।
আবার অনেক সময় স্থায়ী প্রকৃতির প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায় কিছু কার্য সম্পাদন করতে হয়, যে কার্য স্থায়ী প্রকৃতির নয় এবং এই ধরনের কাজের প্রকৃতি বা স্থায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের জীবন কালের সাথে সম্পৃক্ত নয় অর্থাৎ এ ধরনের কাজের স্থায়িত্ব অনির্ধারিত সময় এবং প্রতিষ্ঠানের জীবন কাল পর্যন্ত অনন্ত সময় চলবে এই ধরনের নয়। সাধারনত এই ধরনের কাজ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সীমিত সময়ের জন্য বা সীমা নির্ধারিত সময়ের জন্য অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে উক্ত কাজের আর কোন অস্তিত্ব থাকবে না এই ধরনের কাজকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী কাজ বলে।
কোন কাজ শুরু হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল কিন্তু কোন কারনে শেষ হয়নি অথবা কাজ শুরু হবার পর দেখা যায় একই ধরনের অতিরিক্ত কিছু কাজ বৃদ্ধি পাওয়ায় উক্ত কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি; এই ধরনের কাজ যা সময় বৃদ্ধি সাপেক্ষে অতিরিক্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হবে, সেটাও অস্থায়ী কাজের মধ্যে অর্ন্তভুক্ত হবে।


প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর শর্ত সাপেক্ষে ৪ ধারা অধীন শ্রেণী বিন্যাসকৃত শ্রমিকদের মধ্যে হতে অস্থায়ী কাজ সম্পাদনের জন্য অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ দিতে হবে।

অস্থায়ী শ্রমিকঃ
কোন শ্রমিককে অস্থায়ী শ্রমিক বলা হইবে যদি কোন প্রতিষ্ঠানে তাহার নিয়োগ এমন কোন কাজের জন্য হয় যাহা একান্তভাবে অস্থায়ী ধরনের এবং যাহা সীমিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ব্যাখ্যাঃ অস্থায়ী কার্য সম্পাদনের জন্য অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ প্রদান করা হয় এবং এ নিয়োগ কখনো অনির্দিষ্ট কালের জন্য হয় না। কাজের ধরণ বা প্রকৃতি অস্থায়ী না হলে অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ দেয়া যাবে না। স্থায়ী কাজের জন্য অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ আইন সম্মত নয়।

অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগের প্রধান দুইটি শর্ত (ক) কাজের ধরণ ও প্রকৃতি অস্থায়ী (খ) সীমিত সময়ের মধ্যে কর্ম সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং উক্ত সীমিত সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়।

কোন অস্থায়ী শ্রমিককে যে পদে নিয়োগ দেয়া হবে উক্ত পদে সরকারের বা নূন্যতম মজুরী বোর্ডের কোন মজুরী নির্দেশনা না থাকলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মজুরী প্রতিষ্ঠানের নীতি অনুসারে নির্ধারিত হবে।

ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মাসিক মজুরির ভিত্তিতে নিয়োগকৃত অস্থায়ী শ্রমিকের ৩০ দিনের লিখিত নোটিশ প্রদান করিয়া অথবা নোটিশের পরিবর্তে উক্ত দিনগুলির জন্য মজুরী পরিশোধ করিয়া চাকুরির অবসান করতে পারবেন একই ভাবে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ৩০ দিনের নোটিশ প্রদান করিয়া বা নোটিশের পরিবর্তে উক্ত দিনগুলির মজুরী পরিশোধ করিয়া চাকুরি হতে ইস্তফা প্রদান করতে পারবেন এবং মাসিক মজুরি ব্যতীত অন্যভাবে নিয়োগ (সাপ্তাহিক বা দৈনিক ভিত্তিতে) অস্থায়ী শ্রমিকের ১৪ দিনের লিখিত নোটিশ প্রদান করিয়া বা নোটিশের পরিবর্তে উক্ত দিনগুলির মজুরী পরিশোধ করিয়া ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকের চাকুরির অবসান করতে পারবেন; একইভাবে উক্ত শ্রমিক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ১৪ দিনের লিখিত নোটিশ প্রদান করিয়া বা নোটিশের পরিবর্তে উক্ত দিনগুলির মজুরী পরিশোধ করিয়া চাকুরি হতে ইস্তফা প্রদান করতে পারবেন এবং এখানে উল্লেখ্য যে, যে অস্থায়ী কাজ সম্পাদনের জন্য অস্থায়ী শ্রমিক নিযুক্ত হয়েছেন, সে কাজ সম্পূর্ণ হওয়া, বন্ধ হওয়া বা পরিত্যক্ত হওয়ার কারনে চাকুরির অবসান হলে উপরোক্ত নোটিশ বা নোটিশের পরির্বতে পরিশোধ প্রযোজ্য হবে না। [বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ২৬(২) এবং ২৭(২)]

অস্থায়ী শ্রমিক, স্থায়ী শ্রমিকের মত চাকুরী পরিসমাপ্তিকালীন দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা যেমন ক্ষতিপূরণ (তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হচ্ছে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ), ভবিষ্যৎ তহবিল বা গ্রাচুইটি ইত্যাদি প্রাপ্য হবেন না, তবে সীমিত পরিসরে শ্রম আইন নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে চাকুরী পরিসমাপ্তির পূর্বে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নোটিশ বা নোটিশের পরিবর্তে পরিশোধ প্রাপ্য হবেন।
কোন অস্থায়ী শ্রমিক, যাহার নাম কোন প্রতিষ্ঠানের মাস্টার রোলে অন্তর্ভুক্ত আছে এবং যিনি মালিকের অধীনে অন্ততঃ এক বৎসর চাকুরী সম্পূর্ণ করিয়াছেন, তাকে লে-অফ করা হলে, তিনি লে-অফ ক্ষতিপূরণ পাবেন।

কোন অস্থায়ী শ্রমিককে বরখাস্ত করতে হলে শ্রম আইনে উল্লেখিত শৃঙ্খলা পদ্ধতি অনুসরন করে করতে হবে। অসদাচরণের জন্য দায়ী কোন অস্থায়ী শ্রমিককে শৃঙ্খলা পদ্ধতি অনুসরন না করে সরাসরি বরখাস্ত করা যাবে না।

অস্থায়ী শ্রমিক সকল প্রকার ছুটির সুবিধা এবং ওভারটাইম এর জন্য অতিরিক্ত মজুরি প্রাপ্ত হবেন। অস্থায়ী শ্রমিক কোন নির্দিষ্ট অস্থায়ী কর্মের জন্য নিযুক্ত হবেন এবং তার কার্য বিবরনী ও নির্দিষ্ট হবে। অস্থায়ী শ্রমিককে যে নির্দিষ্ট কর্মের জন্য নিয়োগ প্রদান করা হয়; সে কার্য সম্পূর্ণ হলে তাকে অন্য কোন কার্যে লাগানো যাবে না। তবে একটি কার্য সম্পূর্ণ হলে তাকে চাকুরী হতে অব্যাহতি দেয়ার কিছুদিন পর আবার অন্য একটি অস্থায়ী কার্যের জন্যে তাকে নতুনভাবে নিয়োগ দেয়া যাবে। অস্থায়ী শ্রমিককে কখনো বদলি করা যাবে না। অস্থায়ী শ্রমিক চাকুরীতে নিরবচ্ছিন্নভাবে এক বৎসর অতিবাহিত করলে উৎসব বোনাসের জন্য যোগ্য হবেন এবং শ্রম আইনের শর্ত অনুসারে বোনাস প্রাপ্য হবেন। অন্যান্য শর্তসমূহ যেমন কর্মঘন্টা, নিরাপত্তা, মার্তৃত্বকালীন সুবিধা, কল্যাণমূলক ব্যবস্থা, মজুরী, দূর্ঘটনা কারনে ক্ষতিপূরন ইত্যাদি শ্রম আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে। অস্থায়ী শ্রমিকের কোন শিক্ষানবিস কাল থাকে না।
অস্থায়ী শ্রমিকের চাকুরিকাল নির্ধারিত থাকে এবং নির্ধারিত সময় পর চাকুরি পরিসমাপ্তি ঘটে, তবে কোন কোন ক্ষেত্রে যে কাজে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সে কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ না হয়ে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয় অথবা কাজ শুরু হওয়ার পর দেখা যায় একই ধরনের অতিরিক্ত কিছু কাজ বৃদ্ধি পাওয়ায় উক্ত কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি; এই ধরনের কাজ যা সময় বৃদ্ধি সাপেক্ষে অতিরিক্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হবে, তাও অস্থায়ী কাজের অর্ন্তভুক্ত হবে এবং কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন মনে করলে এধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের চাকুরীকাল নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারবে।

অস্থায়ী শ্রমিকের চাকুরিকাল সংশ্লিষ্ট অস্থায়ী কাজের স্থায়ীত্ব কাল পর্যন্ত ব্যাপ্ত হতে পারে ; অর্থাৎ অস্থায়ী কাজের স্থায়ীত্ব কাল ৫/৭ বৎসর হলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ৫/৭ বৎসরের জন্যও নিয়োগ পেতে পারে।

উদাহরনস্বরুপ বলা যায়, কোন একটা গ্রূপ অব কোম্পানীর নতুন একটি পোষাক কারখানা তৈরীর জন্য দুই বছর সময় নির্ধারন করা হয়েছে এবং কারখানাটি নির্মানে এই দুই বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক শ্রমিক (রাজমিস্ত্রী) নিয়োগ করতে হবে। উক্ত কারখানাটি তৈরীর জন্য দুই বছর মেয়াদী কাজের বিপরীতে যে শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হবে তা অস্থায়ী ধরনের কাজের বিপরীতে অস্থায়ী শ্রমিক হবে। এখানে উল্লেখ্য যে স্থায়ী কাজের বিপরীতে কখনো অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ দেয়া যায় না; যেহেতু কারখানা নির্মান উক্ত গ্রুপ অব কোম্পানীর মূর ব্যবসা বা স্থায়ী কাজ নয় এবং এটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলা অস্থায়ী কাজ সেহেতু এক্ষেএ নিয়োগ প্রাপ্ত শ্রমিকগন অস্থায়ী শ্রমিক হবে।

অস্থায়ী শ্রমিক ও সাময়িক শ্রমিকের মধ্যে পার্থক্য হল সাময়িক শ্রমিক নৈমত্তিক ঘটে যাওয়া কোন ঘটনার ফলে সৃষ্ট কার্য সম্পাদন করেন। সাময়িক কাজ কখন সৃষ্টি হতে পারে তা পূর্ব হতে কোন অনুমান করা যায় না এবং এ ধরনের কাজের স্থায়িত্ব কালও ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতির হয় পক্ষান্তের অস্থায়ী শ্রমিক সাময়িক নয় একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলবে এ ধরনের কার্য সম্পাদনে নিয়োগ প্রাপ্ত হন এবং উক্ত কাজের স্থায়ীত্বকাল পর্যন্ত উক্ত অস্থায়ী নিয়োগ অক্ষুন্ন থাকতে পারে।

ব্যতিক্রমঃ নির্দিষ্ট বা সীমিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে এ ধরনের কাজ সম্পাদনের জন্য অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়। যদি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ একজন অস্থায়ী শ্রমিক দিয়ে সীমিত সময় ব্যপ্ত কাজ না করিয়ে, কোন স্থায়ী কাজ একই সাথে বা তিন বৎসরের মধ্যে বিরতি না দিয়ে ৯০ দিনের বেশী সময় কাজ করান তবে যদি সংশ্লিষ্ট অস্থায়ী শ্রমিকটি স্থায়ী

শ্রমিক বলে আইনত দাবী করে উক্ত দাবী আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।]

 

লিখেছেনঃ

মোহাম্মদ বাবর চৌধুরী

সহযোগিতায়ঃ
মোঃ ইমরুল হাসান
এবং মোঃ আফজাল হোসেন রানাা

 

 

 

স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে


     আর সংবাদ পরতে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



আর্কাইভ