• রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৬:২৯ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
শিরোনাম
চট্টগ্রামে টপস্টার গ্রুপে সকল শ্রমিকদের কোভিক-১৯ গন টিকার কর্মসূচি উদ্বোধন চট্টগ্রামস্থ সকল পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কর্মচারীদের গণটিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন। পরিবেশবান্ধব কারখানা ছড়িয়ে দেওয়ার কারিগর-অ্যাবা গ্রুপের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমান মৃধা ধারাবাহিক পর্বের – ০৬, শিক্ষাধীন শ্রমিক- একটি আইনগত বিশ্লেষণ। করোনার টিকা ও কিট চেয়ে দুই রাষ্ট্রদূত ও এক ব্র্যান্ডকে বিজিএমইএ সভাপতির চিঠি পোশাকখাতসহ সব ধরনের রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানাকে বিধিনিষেধের আওতামুক্ত ঘোষণা। শিল্প-কারখানা খুলে দিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন সব শিল্পের মালিকরা। এবার সর্বাত্মক লকডাউনে বন্ধ থাকছে শিল্পকারখানাও স্নাতক পাসে বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি, নেই অভিজ্ঞতার প্রয়োজন Walt Disney to reinstate Bangladesh as a Permitted Sourcing Country

মানসিকতা পরিবর্তনের গল্প লিখেছেন-ইউসুফ ইফতি

rmgnews24
আপডেট: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২০

#LearnWithFutureIcon #PositiveStory #LearningStory

হীরে ছড়ানো ক্ষেত (Story)

আফ্রিকায় এক কৃষক সুখী ও পরিতৃপ্ত জীবন নির্বাহ করতে ছিল। সে সুখী ছিলো কারন তার যা ছিলো তাতেই সন্তুষ্ট ছিলো। আর সেজন্যই সে সুখী ছিল। একদিন একজন বিজ্ঞ ব্যাক্তি তার কাছে হীরের মহিমা কির্তন করে হীরের ক্ষমতা সম্পর্কে অনেক কথা বললেন। তিনি বললেন তোমার যদি বুড়ো আঙ্গুলের পরমান একটি হীরে থাকে তবে তুমি একটাশহরের মালিক হতে পারবে, আর হাতের মুঠির আকারের একটি হীরে থাকে তবে সম্ভবত একটা দেশের মালিক হতে পারবে এই বলে বিজ্ঞ ব্যক্তিটি চলে গেলেন কিন্তু সেই রাত্রে কৃষক আর ঘুমোতে পারল না তার মনে সুখ ছিল না, কারণ হীরের অভাবে, সে আতৃপ্তির বোধে পীড়িত। আর অতৃপ্ত বলেই সে অসুখী ।

পরদিন থেকেই কৃষক তার খামর বাড়ি বিক্রি করার জন্য তোড়জোড় শুরু করে দিল! শেষ
পর্যন্ত সমস্ত বিক্রি করে, তার পরিবারকে একট নিরাপদ জায়গায় রেখে সে বেরিয়ে পড়ল হীরের খৌজ্‌ করতে সারা আফ্রিকা সন্ধান করে কোথাও হীরে পেল না।

সারা ইউরোপ খুঁজল, কিন্তু সেখানেও কিছু পেল না। যখন স্পেনে পৌছল তখন সে শারীরিক, মানসিক এমনকি অর্থনৈতিক দিক থেকে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত! চরম হতাশাগ্রস্থ হয়ে অবশেষে বার্সিলোনা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সে আত্নহত্যা করল ।

এদিকে যে লোকটি খামারবাড়িটি কিনেছিল সে একদিন সকালে ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট নদীটিতে উটকে জল থাওয়াচ্ছিল। নদীর ওপারে একটি পাথর টুকরোর উপর সকালের রোদ পড়ে রংধনুর মতো বিচিত্র রং ঝকমক্‌ করে উঠল । বসার ঘরের টেবিলের উপর পাথরটি বেশ ভালো দেখাবে মনে করে লোকটি পাথরটি কুড়িয়ে নিয়ে বাড়ি ফিরল।

সেদিন বিকেলেই সেই বিজ্ঞ ব্যক্তিটি বাঁড়িতে এসে টেবিলের উপর ঝকমকে পাথরটি দেখে জিজ্ঞেস করলেন, “রাজু কি ফিরে এসেছে?” রাজু ছিল পুরোনো মালিকের নাম ৷ খামার বাড়ির নতুন মালিক বললেন, “না, কিন্তু একথা জিজ্ঞেস করছেন কেন? বিজ্ঞ ব্যক্তিটি বললেন, “এ পাথরটি একটি হীরে, আমি হীরে চিনি।” মালিক কিন্তু মানতে চাইল না; সে বলল, “না এটি একটি পাথর, আমি নদীর ধারে কুড়িয়ে পেয়েছি।

আমার সঙ্গে আসুন, দেখবেন সেখানে এ ধরনের পাথর আরও অনেক আছে। তারা দু’জনে কিছু পাথর কুড়িয়ে পরীক্ষার জন্য জহুরির কাছে পাঠিয়ে দিল। পাথরগুলি
হীরেই। দেখা গেল সমস্ত ক্ষেতটিতেই একরের পর একর জুড়ে অজস্র হীরে ছড়ানো আছে।

এ গল্পটি কী নীতি শিক্ষা দেয়? এই গল্পটি থেকে পাঁচটি শিক্ষা আমরা পাই-

১. হাতের কাছের সুযোগটিকে যথার্থভাবে ব্যাবহার করাই সঠিক মনোভাব। একরের পর একর বিসতৃত হীরে ভরা ক্ষেতটি ছিল হাতের কাছের সুযোগ । সোনার
হরিণের সন্ধানে না ছুটে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রাপ্ত সুযোগের সদ্যবহার করাই উচিত।

২. নদীর অপর পারের ঘাসকে অনেক বেশি সবুজ মনে হয়। দূরবর্তী সম্ভাবনাকে মানুষ অনেক বেশি উজ্জ্বল মনে করে।

৬. প্রাপ্ত সুযোগকে কাজে না লাগিয়ে যারা সুদূর সম্ভাবনার স্বপ্নে বিভোর থাকে তারা জানে না যে আর একজন এঁ সুযোগটি পাওয়ার আশায় উন্মুখ হয়ে আছে। সে খুশি হবে এ সুযোগটি পেলে ।

৪. সুযোগ-সন্ভাবনা বোঝার ক্ষমতা যাদের নেই, তারা সুযোগ এসে যখন দরজায় কড়া নাড়ে, তখন আওয়াজ হচ্ছে বলে বিরক্ত হয়।

৫. একই রকম সুযোগ দু’বার আসে না পরবর্তী সুযোগ হয়ত বেশি ভালো “হবে কিংব্য খুবই কষ্টসাধ্য হবে কিন্তু একইরকম হবে না।

(গল্পটি শিব খেরা-র বিখ্যাত বই তুমিও জিতবে থেকে নেওয়া)

আরেকটি বাস্তব পজিটিভ মাইন্ডসেট এর গল্প

একটি বিশেষ ঘটনা যা আমার কাছে আজন্মকালের শিক্ষা-

২০১৮ সালের শেষের দিকের ঘটনা

UNFPA এর বাৎসরিক রি-ট্রিট প্রোগ্রাম, ২ দিন ব্যাপী হবে হোটেল গ্রান্ড সুলতান, মৌলভীবাজার, সিলেটে। যেখানে দেশি – বিদেশী ১৫৫ জন প্রশিক্ষনার্থি অংশ নিবেন। ফিউচার লিডার্স সেই কাজটি পায়।এবং বাংলাদেশের খুবই বিখ্যাত প্রশিক্ষক জনাব কাজী এম আহমেদ এই ট্রেনিং এর লিড ট্রেইনার হিসেবে যাবেন। তো ফিউচার লিডার্সের সেই প্রশিক্ষক টিমের আমিও একজন। আমরা ট্রেনে যাবো সিদ্ধান্ত নেই এবং আমার একজন ভি আই পি আত্মীয় থাকার কারনে ট্রেনের বার্থ টিকেট কাটার দায়িত্ব আমি নেই। যথারিতি আমি বিশেষ কোঠায় টিকেট কেটে এনে দেই কাজী স্যারের কাছে। এবং বলি এই টিকেট। রাত ১২.৩০ মিনিটে ট্রেন এবং আমরা বিমান বন্দর ষ্টেশন থেকে উঠবো।

স্যার আমাকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়ে টিকেট-টি পকেটে রেখে দিলেন।
রাতে আমরা বিমান বন্দর ষ্টেশনে যাই ১১.৪০ মিনিট নাগাদ। কিছুক্ষন পর আমি টিটি কে জিজ্ঞেস করলাম সিলেটের ট্রেন আসবে কয়টায়। ওনি আমার দিকে এমনভাবে তাকালে যেন আমি অন্যায় কোনো কথা বলে ফেলেছি তাকে। আমি একটু মোটা গলায় বললাম আপনি এভাবে তাকাচ্ছেন কেনো? টিটি বললেন আপনার টিকেট টা দেখি। আমি ওনাকে টিকেট দেখালাম ওনি এরপরা আমাকে টিকেট- টি দেখিয়ে বললেন আপনার ট্রেনতো ২২.৩০ মিনিটে। তো আমি বলললাম ঠিকিইতো আছে আমি তো সঠিক সময়েই এসেছি। ওনি বললেন স্যার ২২.৩০ মানে রাত ১০.৩০ মিঃ । এবং আপনার সিলেটের ট্রেন চলে গেছে।

আমার মনে হচ্ছিলো পায়ের নিচের মাটি সরে গেলো। মূহুর্তেই আমি চোখে অন্ধকার দেখা শুরু করালম। এইটা আমি কি করেছি। আমিই বলেছি রাত ১২.৩০ মিঃ এজন্য কেউ আর টাইম চেক করেনি।

আমি কাজী স্যারের কাছে আসলাম এবং ওনার চোখের দিকে তাকাতে পারলাম না। নিচের দিকে তাকিয়ে বললাম স্যার একটা চ্যালেঞ্জ হয়েছে। ওনি বললেন কি ট্রেন চলে গিয়েছে। আমি মাথা নাড়ালাম। ওনি বললেন আমারও মনে হচ্ছিলো কিছু একটা। আমিতো সরি বলছি কন্টিনিউয়াস। ওনি তাৎক্ষনিক ভাবিকে (মিসেস কাজী-কে) ফোন করে বললেন আমাদের ট্রেন মিস হয়েছে তাই আমরা আজকে যাচ্ছি না আরো একটা রাত ভালোভাবে ঘুমাতে এবং তোমাদের সবার সাথে থাকতে পারবো। তুমি ড্রাইভার-কে বলে দাও সে যেনো খুব সকালে চলে আসে আমরা বাই রোডে সিলেট যাবো। এবং ওনি আমাকে আর কিছুই বললেন না।

আমি বাসায় ফেরার গাড়ীতে উঠে বারংবার সরি বলছি এবং কেনো যেনো নিজের কাছে এতটাই অথর্ব মনে হচ্ছিলো যে আমার মতো একজন সময় সচেতন মানুষ এইরকম ভূল করে বসে আছি। তার কিছুক্ষন পরে কাজী স্যার বললেলন-

– দেখো তোমার এতো সরি বলার কিছু নেই। ভূল আমারো ছিলো। তুমি কিন্তু টিকেট আমার কাছে দিয়েছিলে আমি তোমার কথাই বিশ্বাষ করে টাইম না দেখে রেখে দিয়েছি। আমি একজন সচেতন মানুষ হিসেবে এই কাজটা করা ঠিক হয়নি। এইটা আমাদের জীবনের একটা শিক্ষা। এখন থেকে যেকোনো টিকেটে-র আগে দেখবো সময় এবং তারিখ। তোমার জীবনেরও একটা লেসন হয়েছে নিশ্চয়ই। এই কথার উপরে আমি আর কোনো কথা বলতে পারি নি।

সেইখান থেকে আমার শিক্ষা ২ টি
১। এমন ক্রাইসিস মোমেন্টেও একজন লিডার মাথা ঠান্ডা রেখে এবং টিমের অন্যায়কারীকে বকা না দিয়েও বিষয়টি যে খুব পজিটিভ ভাবে ম্যানেজ করা যায় তা শিখতে পেরেছি।
২। টিকেটের সময় ও তারিখ ভালোভাবে দেখি।

Writer
Yousuf Efti
Sales Leadership Trainer
Founder & CEO, FUTURE ICON


এই বিভাগের আরো খবর