• বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English

কর্মীর শ্রেণী বিন্যাসের ভিত্তির তত্ত্ব ও কাজের শ্রেণী বিন্যাস (ধারাবাহিক পর্বের-৩য় পর্ব)

rmgnews24
আপডেট: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২০

শ্রম আইন অনুসারে কর্মীর শ্রেণী বিন্যাসের ভিত্তির তত্ত্ব ও কাজের শ্রেণী বিন্যাস (ধারাবাহিক পর্বের-৩য় পর্ব)

শ্রম আইন অনুশীলনকারী সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় মত বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এসব বিষয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কর্মীদের মধ্যে কে শ্রমিক বা শ্রমিক নয় এটি একটি যেমন গুরুত্বপুর্ন বিতর্ক তেমনি অন্য একটি গুরুত্বপুর্ন বিতর্ক হচ্ছে, কেউ শ্রমিক হলে সে কি স্থায়ী শ্রেনীর শ্রমিক, না অন্য শ্রেনীর শ্রমিক তা নির্নয় করা।
একটি প্রতিষ্ঠানে কার্য সম্পাদনে কর্মীর নিয়োগ হয় তাই কর্মীর ধরন নির্নয়ের পূর্বে নিয়োগকৃত কর্মী বা কর্মরত কর্মী প্রতিষ্ঠানে কি কার্য সম্পাদন করেন বা করবেন তা নির্নয় করা অত্যাবশ্যক। কর্মীর শ্রেণী নির্নয়ের পূর্বে প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা তত্বের আলোকে কর্মের শ্রেণী নির্নয় করতে হবে। আমরা যদি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা তত্বের আলোকে কর্মের শ্রেণী নির্নয় করতে পারি তাহলে সহজে কর্মীর শ্রেণী নির্নয় করতে পারব।
আবার কর্মীদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা তত্ত্বের আলোকে শ্রমিক শ্রেনীর কর্মীরা যে সব কাজ করেন সে কাজের স্থায়িত্ব ও প্রকৃতির উপর নির্ভর করে শ্রমিক শ্রেণীকে সাত শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়।
তাই প্রতিষ্ঠানের কর্মীর শ্রেণী বা শ্রমিকের শ্রেণী নির্নয়ে প্রতিষ্ঠানে কাজের শ্রেণী অনুধাবন অত্যাবশ্যক। কাজের শ্রেণী অনুধাবনে আমার একটি গবেষনা নির্বাচিত কিছু অংশ সংশোধিত আকারে নিম্নে তুলে ধরা হলঃ

গবেষনা পত্রঃ নিয়োগ ও নিয়োগ পত্র (নির্বাচিত ও আংশিক সংশোধিত অংশ)

কর্মীর শ্রেনী বিন্যাস করন সূত্রঃ “কর্ম হইতে কর্মীর উৎপত্তি”
প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগের সময় সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরন করে সঠিক শ্রেণীর কর্মী নিয়োগ করতে হয়। কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে শ্রম আইন এবং উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ গুলো পর্যালোচনায় দেখা যায় সকল নিয়োগ এবং নিয়োগকৃত কর্মীদের শ্রেণী বিন্যাস কর্মকে ভিত্তি ধরে করা হয়েছে। তাই আমি কর্মীর শ্রেনী বিন্যাস নির্ধারণে কর্মকে ভিত্তি ধরে একটি সূত্র নির্ধারণ করেছি, সূত্রটি কর্মী নিয়োগের সময় বা কর্মরত কর্মীর শ্রেণী নির্নয়ে মনে রাখতে হবে এবং উক্ত সূত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রশ্নের উত্তর খুজতে হবে।
সূত্রটি যদি আমরা যথাযথ ভাবে ব্যবহার করতে পারি তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্ম সম্পাদনে সঠিক শ্রেণীর কর্মী নিয়োগ দিতে এবং কর্মরত কর্মীদের সঠিক শ্রেণী নির্নয় করতে পারব। আমার নির্ধারিত সূত্রটি হচ্ছে “কর্ম হইতে কর্মীর উৎপত্তি “। এই উক্তিটি আমাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে এবং কর্মরত কর্মীদের সঠিক শ্রেণী নির্নয় করতে সূত্র হিসাবে মনে রাখতে হবে এবং কোন নিয়োগ বা কর্মরত কোন কর্মী কোন শ্রেনীভুক্ত তা নির্নয়ে এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে হবে।
নিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদেরকে দেখতে হবে কি ধরনের কর্ম সম্পাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগ করতে হয়। প্রতিষ্ঠানে যে ধরনের কর্ম সম্পাদন করতে হবে, সে ধরন অনুসারে কর্মী নিয়োগ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকৃত কর্মীর ধরন ও শ্রেণী কিভাবে সহজে বুঝা যায় তা উক্ত সূত্রটি আলোচনার মাধ্যমে নিন্মে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুসারে কর্মী ও কর্মীর শ্রেনী বিন্যাস তুলে ধরা হয়েছে।

শ্রম আইন অনুসারে প্রতিষ্ঠানে কাজের শ্রেনী বিন্যাসঃ
শ্রম আইনের অন্তর্নিহিত অর্থ এবং উচ্চ আদালতের রায়ের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ অনুসারে প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের কাজের শ্রেনী বিন্যাসে “কর্ম হইতে কর্মীর উৎপত্তি” সূত্রটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দেখা যায় একটি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা তত্ত্ব ও কর্মের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে কর্মকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমনঃ
(ক) প্রশাসনিক বা ব্যবস্থাপনামূলক কর্ম
(খ) তদারকি কর্ম
(গ) দক্ষ, অদক্ষ, কায়িক, কারিগরি, ব্যবসা উন্নয়নমূলক অথবা কেরানীগিরির কর্ম।
প্রতিষ্ঠানে কর্মের এই ধরন সমুহের সাথে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ এবং উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের আলোকে শ্রনী বিন্যাসকৃত কর্মীদের নিয়োগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। নিন্মে কাজের ধরন এবং কর্মী নিয়োগের সম্পর্ক আলোচনা করা হলঃ

(ক) প্রশাসনিক বা ব্যবস্থাপনামূলক কর্মঃ
এই ধরনের কাজ একটি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব সংরক্ষণ ও প্রতিষ্ঠানকে সামনে এগিয়ে নিতে মূল চালিকা শক্তির ভূমিকা রাখে। প্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারণ ও কৌশলগত পরিকল্পনা প্রনয়ণ ও বাস্তবায়ন, শ্রমিক বা কর্মচারীদের নিয়োগ, বেতন ও ভাতাদি নির্ধারণ, চাকুরির অবসান বা চাকুরি হইতে অপসারণ, চূড়ান্ত পাওনাদি পরিশোধ এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যয় অনুমোদন বা কাজের নিয়ন্ত্রণ এধরনের কাজের অন্তর্ভুক্ত, এই কাজ গুলো প্রতিষ্ঠানের কর্ম বিভাজন তত্ত্বের আলোকে চিন্তা করলে প্রতিষ্ঠানের উচ্চস্তরের কাজ হিসাবে বিবেচিত হয়।

সংগঠন জন্মের পর থেকে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি এক সাথে কাজ করতে গিয়ে প্রত্যেকে তার নিজের কাজ যেমন সম্পাদন করে তেমনি দুই বা ততোধিক ব্যক্তির এক সাথে করা কাজ সংগঠনের লক্ষ্য অর্জনে সমন্বয় করতে কিছু ব্যক্তিকে সাংগঠনিক কাজ করতে হয়। সংগঠনের এই কাজ গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সংগঠনের সদস্যদের নিয়োগ, তাদের সুযোগ – সুবিধা নির্ধারণ, সদস্য পদ থাকা বা না থাকার সিদ্ধান্ত প্রদান, সদস্য পদের সমাপ্তি অন্তে সদস্যগনের সুযোগ সুবিধা এবং সংগঠনের ব্যয় অনুমোদন বা কাজের নিয়ন্ত্রণ করা। কালের বিবর্তনে সংগঠন গুলো যখন ব্যবসা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে রুপ নেয় তখন এসব কাজ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক বা ব্যবস্থাপনামূলক কর্ম বলে পরিচিতি লাভ করে।
ব্যবসা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্মের শুরুতে এধরনের কাজ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হোল্ডার মালিকগন সরাসরি নিজেরা করতেন কিন্তু কালের বিবর্তনে যখন একজন ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হোল্ডার বা মালিক হয় এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানে স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে মালিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয় তখন শেয়ার হোল্ডার মালিক গন চিন্তা করল প্রতিষ্ঠানে নিজেদের মালিকানা অক্ষূন্ন রেখে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব ধরে রাখার জন্য মালিকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার জন্য কিছু ব্যক্তির প্রয়োজন; যারা মূলত কৃত্রিম মালিকানা স্বত্ত্বা নিয়ে প্রতিষ্ঠানে মালিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন। এই কৃত্রিম মালিকানা স্বত্ত্বা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রকৃত শেয়ার হোল্ডার মালিকগন আইনগত ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে শেয়ার হোল্ডার বিহীন মালিকানা স্বত্ত্বা নিয়ে মালিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ ব্যক্তিদের যে কাজ হস্তান্তর করেন তাই মূলত প্রশাসনিক বা ব্যবস্থাপনামূলক কাজ, এটি মূলত প্রতিষ্ঠানের শাসক শ্রেণীর কাজ, এধরনের কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে শাসন ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন সুসংগঠিত এবং তরান্বিত হয়।

(খ) তদারকি কর্মঃ
প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা ও কর্ম বিভাজন তত্ত্বের আলোকে তদারকি কর্ম প্রতিষ্ঠানের মধ্য স্তরের কর্ম। যখন একাধিক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের নিন্মস্তরের কাজ করে তখন প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে তাদের কাজ উচ্চ স্তরের প্রশাসনিক এবং ব্যবস্থাপনামূলক কাজের দিক নির্দেশনা অনুসারে সম্পাদিত হচ্ছে কিনা তার তত্ত্বাবধান এবং সঠিক নির্দেশনা প্রদান করতে হয়; এই তত্ত্বাবধানই তদারকি কর্ম; এটিও এক ধরনের সাংগঠনিক কাজ। তদারকিমূলক কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের উচ্চ ও নিন্ম স্তরের মধ্যে যোগ সূত্র বা বন্ধন সৃষ্টি করা হয়। তদারকি কাজের উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র হল কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের কোন শাখার কোন কাজের বা সেবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন, কাজের পরিধি নিয়ন্ত্রন, বাস্তনায়ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, কাজের মূল্যায়ন বা পর্যালোচনা, শ্রমিকদের দিক নির্দেশনা প্রদান বা তদারকি করা। আইনের ভাষায় এধরনের কাজ সম্পাদনকারী কর্মীকে তদারকি কর্মে নিযুক্ত কর্মী বলে।

(গ) দক্ষ, অদক্ষ, কায়িক, কারিগরি, ব্যবসা উন্নয়নমূলক অথবা কেরানীগিরি কর্মঃ
প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা ও কর্ম বিভাজন তত্ত্বের আলোকে চিন্তা করলে এধরনের কর্মকে প্রতিষ্ঠানের নিম্নস্তরের কর্ম বলে; এধরনের কর্মের মধ্যে সাধারণত দক্ষ, অদক্ষ, কায়িক, কারিগরি, ব্যবসা উন্নয়নমূলক
অথবা কেরানীগিরি কর্ম অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের কাজ কর্মী নিজের শ্রম, মেধা, প্রজ্ঞা দিয়ে অন্যের তত্বাবধান ও নির্দেশনায় সম্পাদন করে। এই ধরনের কর্মের মধ্যে সাংগঠনিক কোন কাজ অন্তর্ভুক্ত নয়, যেমন একাধিক ব্যক্তিকে দিক নির্দেশনা প্রদান, তত্ত্বাবধান, আদেশ নির্দেশ প্রদান, সংশ্লিষ্টদের সুযোগ সুবিধা সম্প্রসারণ, প্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারণ ইত্যাদি। আইনের ভাষায় এধরনের কাজ সম্পাদনকারী কর্মীকে শ্রমিক বলে।

শ্রম আইন অনুসারে শ্রমিকের কাজের শ্রেনী বিন্যাসঃ
শ্রম আইন অনুসারে শ্রমিকের কাজের শ্রেনী বিন্যাস শ্রম আইনের অন্তনিহিত অর্থ এবং উচ্চ আদালতের রায়ের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ অনুসারে শ্রমিকদের বিন্যাসে “কর্ম হইতে কর্মীর উৎপত্তি” সূত্রটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দেখা যায় কাজের প্রকৃতি ও স্থায়িত্বকে ভিত্তি ধরে শ্রমিকদের কর্মকে চার ভাগ করা হয়েছে। যেমনঃ
(ক) স্থায়ী কাজ
(খ) অস্থায়ী কাজ
(গ) সাময়িক কাজ
(ঘ) মৌসুমি কাজ।
কাজের এই ধরন সমুহের সাথে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ৪ এর অধীন শ্রেনী বিন্যাসকৃত শ্রমিকদের নিয়োগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। নিন্মে কাজের ধরন এবং শ্রমিক নিয়োগের সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ

(ক) স্থায়ী কাজঃ
স্থায়ী কাজ হচ্ছে ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান যতদিন থাকবে সংশ্লিষ্ট কাজ উক্ত ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানে ততদিন থাকবে। প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার অস্তিত্বের সাথে এধরনের কাজের অস্তিত্ব জড়িত। প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায় বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর শর্ত সাপেক্ষে ৪ ধারার অধীন শ্রেনী বিন্যাসকৃত শ্রমিকদের মধ্যে হতে স্থায়ী কাজ সম্পাদনের জন্য চার ধরনের শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। উক্ত চার ধরনের শ্রমিক হল, যথাক্রমে (১) স্থায়ী শ্রমিক; (২) শিক্ষানবিস শ্রমিক; (৩) বদলী শ্রমিক; (৪) শিক্ষাধীন শ্রমিক।

(খ) অস্থায়ী কাজঃ
প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায় অনেক সময় এমন সব কাজ করতে হয়, যে সব কাজ সীমিত সময়ের জন্য বা সীমা নির্ধারিত সময়ের জন্য অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলে এমন, নির্দিষ্ট সময় পর প্রতিষ্ঠানে উক্ত কাজের আর কোন অস্তিত্ব থাকবে না তাকে অস্থায়ী কাজ বলে। প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায় বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর শর্ত সাপেক্ষে ৪ ধারার অধীন শ্রেনী বিন্যাসকৃত শ্রমিকদের মধ্যে হতে অস্থায়ী কাজ সম্পাদনের জন্য এক ধরনের শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ রয়েছে, এটি হল অস্থায়ী শ্রমিক।

(গ) সাময়িক কাজঃ
প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায় অনেক সময় এমন সব কাজ করতে হয়, যে সব কাজ স্বল্প সময়ের জন্য অর্থাৎ সাময়িক সময়ের জন্য, সাময়িক সময় পর প্রতিষ্ঠানে উক্ত কাজের অস্তিত্ব থাকবে না তাকে সাময়িক কাজ বলে। প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায় বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর শর্ত সাপেক্ষে ৪ ধারার অধীন শ্রেনী বিন্যাসকৃত শ্রমিকদের মধ্যে হতে সাময়িক কাজ সম্পাদনের জন্য এক ধরনের শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ রয়েছে, শ্রমিকের এই ধরনটি হল সাময়িক শ্রমিক।

(ঘ) মৌসুমী কাজঃ
যে সব প্রতিষ্ঠান মৌসুমের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ের সাথে জড়িত তাদের বৎসরের নিদিষ্ট সময়ে ব্যবসায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কাচামালের মৌসুম চলাকালীন প্রতিষ্ঠানে কাজ থাকে, মৌসুম চলে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানে উক্ত কাজের কোন অস্তিত্ব থাকে না। উক্ত মৌসুমের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজকে মৌসুমি কাজ বলে। প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায় বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর শর্ত সাপেক্ষে ৪ ধারার অধীন শ্রেনী বিন্যাসকৃত শ্রমিকের মধ্যে মৌসুমি কাজ সম্পাদনের জন্য এক ধরনের শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ রয়েছে, এটি হল মৌসুমি শ্রমিক।

 

প্রধান গবেষকঃ
মোহাম্মদ বাবর চৌধুরী
অ্যাডভোকেট এন্ড লীড কনসালটেন্ট, বাবর এন্ড এসোসিয়েটস এবং শ্রম আইন বিষয়ক গবেষক।


এই বিভাগের আরো খবর