• বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English

আজ সময়ের দাবী -একটি প্লাটফর্ম

rmgnews24
আপডেট: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০

একটি প্লাটফর্ম

 

লিখেছেনঃ জনাব, এম এ মান্নান পাভেল

এইচ.আর প্রফেশনাল, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদক হ্যাকস্

ডিম সাদা খোলসে আবৃত একটি খাদ্য, কিন্তু যখন এ ডিমকে সিদ্ধ করে খাওয়ার উপযোগী করা হয় তখন এর উপরের সাদা খোলসটি ছাড়ানো হলে পাওয়া যায় একটি সাদা স্তর আর সাদা স্তর দিয়ে চারদিকে মোড়ানো অবস্থায় ভিতরে আর একটি অংশ থাকে হলুদ রংয়ের যেটিকে আমরা বলি কুসুম। আমরা প্রায়শই বলি জীবন চলার পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয় কন্টকাকীর্ণ। আমরা যারা গার্মেন্টস সেক্টরে কমপ্লায়েন্স ডিপার্টমেন্ট এ জব করি তাদের চলার পথটিও কিন্তু কুসুমাস্তীর্ণ নয় বরং কন্টকাকীর্ণ। আমি জানি হয়তো অনেকেই আমার সাথে একমত হতে পারবেন না। কিন্তু আমার এ স্বল্প সময়ের চাকুরীর অভিজ্ঞতায় তাই মনে হয়। যাই হোক সব বাঁধাকে জয় করেই সামনে এগিয়ে যেতে হয়, এটাই জীবনে চলার পথের কন্টকাকীর্ণ পথকে পাড়ি দেয়ার সবচেয়ে বড় মূলমন্ত্র।
মানুষ প্রাকৃতিক ভাবেই সামাজিক জীব। তাই তাদর মনোবৃত্তিতে সংগঠন নামে একটি জিনিস সবসময় খেলা করে। এমন কোন প্রতিষ্ঠান বা এমন কোন পদ নেই যে তাদের কোন সংগঠন নেই। কিন্তু কেন যেন গার্মেন্টস এর কমপ্লায়েন্স পেশাজীবিদের কোন শক্ত সংগঠন আজো হয়নি। সংগঠন কোন মুখের কথা নয় বা কারো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নয়, এটি একটি চর্চার জায়গা, আবেগের জায়গা, সংগঠন চর্চার ইতিহাস অনেক দীর্ঘ এবং অত্যন্ত উজ্জ্বল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বে কিংবা বাঙালীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সেই প্রাচীনকাল হতেই বিভিন্ন রাজা, কবি সাহিত্যিক রাজনীতিবিদ সংগঠন করে আসছেন। তন্মধ্যে রাজা রামমোহন রায়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদের জীবনী বা কর্মপদ্ধতি অবলোকন করলে প্রতীয়মান হয় যে, উনারা প্রত্যেকেই সাংগঠনিকভাবে কাজ করে গেছেন। সংগঠন কোন একটি ফুল নয়, সংগঠন একটি মালা। কোন একজন সংগঠনের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, সংগঠন হলো এক সুতোয় এক এক করে এক একটা ফুল দিয়ে গাঁথা মালার মতো, যেখানে এক একটি ফুল হলো এক একজন শিল্পী। আলাদাভাবে ফুল সুন্দরতো হয়ই, তবে মালা হয় তখনই যখন সেই সুতোয় এক এক করে অজস্র ফুলের সমাবেশ ঘটানো হয়। ফুলের মালার সৌন্দর্য নির্ভর করে যিনি মালা গাঁথছেন তার ধ্যান, নিষ্ঠা, ধৈর্য্য, একাগ্রতা, দক্ষতা এবং ভালবাসার উপর। যদি ভালবাসা না থাকে তবে সে সংগঠন কখনো সফলতার মুখ দেখেনা।
কলমের আঁচড় দিয়ে কাগজের বুকে দাগ না টানলে যেমন লিখা হয়না তেমনি সংগঠন পরিচালনা করার জন্য দরকার দক্ষ, উদ্যোমী, উদ্যোগী পরিশ্রমী পরিচালক বা নির্দেশকের। যার দক্ষ পরিচালনায় সংগঠন হবে মজবুত ও সংগঠন পাবে তার পরিপূর্ণতা। প্রতিশ্রুতিহীন, দায়বদ্ধতাহীন কোন সংগঠক তার সংগঠনকে কখনোই সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারেননা। পারেননা তার সংগঠনের অন্যান্য সদস্যদের সমস্যা সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে। মূ্ল্যবোধহীন, খ্যাতির লালসাকারী, চেতনাহীন ব্যক্তির দ্বারা কখনো সাংগঠনিক সফলতা আশা করা যায়না। কারন তার মনের মাঝে সবসময় বিরাজ করে নিজে কি পাবে কিভাবে নিজে বড় হতে পারবে এ ধরনের চিন্তাধারা। প্রতিনিয়ত সাপের খোলসের মতো এরা নিজেদের খোলস পরিবর্তন করে নিজেকে সাধু হিসেবে প্রচার, প্রচারনা করতে চায়, আর এদের তোষামুদি করার জন্য আছে কিছু শ্রেনীর শিক্ষিত বোকা। তারা জানেই না যে, তাকে ব্যবহার করে পর্দার আড়াল থেকে সে তার স্বার্থ হাসিল করে নিচ্ছে। তাই কেউ যেন এ সেক্টরের কোন পেশাজীবিকে বোকা বানিয়ে পর্দার আড়ালে থেকে নিজের স্বার্থ হাসিল করে নিয়ে চলে না যায় আজ থেকে এটাই হোক আমাদের শপথ।
তাই সময় হয়েছে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার, আমরাই একমাত্র অবহেলিত শ্রেনী যাদের পক্ষে কথা বলার বা পাশে দাঁড়ানোর কোন সংগঠনতো নয়ই, কেউই নেই। তাই এমন একটি সংগঠন চাই যারা আমাদের পাশে দাঁড়াবে, আমাদের কষ্টগুলো বুঝবে, সংগঠনের পরিচালনা কমিটি সহ যারা থাকবে তাদের সাথে মনখুলে কথা বলা যাবে, আমার দু:খে দু:খী হবে, আমার সুখে সুখী হবে। হয়তো এটা হতে সময় লাগবে তবুও চাইবো এমন একটি সংগঠন যেখানে কোন ভেদাভেদ থাকবে না, রাজনীতির ছিটেফোটা থাকবে না, সাদা কালোর বৈষম্য থাকবেনা, থাকবেনা কোন রেষারেষি সকলের অধিকারের কথা বলবে, ভাল থাকার কথা বলবে, আমাদের যৌক্তিক দাবী নিয়ে কথা বলবে… ……… সেদিনের অপেক্ষায়।

আর.এম.জি নিউজ ২৪

 


এই বিভাগের আরো খবর