• সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৫:২২ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English

একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন চট্টগ্রামের পরিচিত মুখ জি.এম সাইদুর রহমান মিন্টু

rmgnews24
আপডেট: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০

একান্ত সাক্ষাৎকারে আমাদের আজকের অতিথি চট্টগ্রমের এইচআর, এডমিন ও কমপ্লায়েন্স পেশাজীবীদের প্রতিনিধি জনাব জি.এম. সাইদুর রহমান মিন্টু, প্রধান উপদেষ্টা; চট্টগ্রাম কমপ্লায়েন্স সোসাইটি এবং ইসি ও জয়েন্ট সেক্রেটারি বিএসএইচআরএম।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি বিঙ্ঘানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করে আমাদেরই বিভাগের সবার শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক অধ্যাপক ডঃ আব্দুল হাকিম (যিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ছিলেন ও গত পাঁচ বছর চ.বি. তে সুপার নিউমারি অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষাদানরত আছেন) স্যার এর সুপারিশে আমাদের বিভাগ থেকে পাশ করা বড়ভাই ও স্যারের কুমিল্লার কামরুল হুদা স্যারের (যিনি ফের এইচ গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর ছিলেন) মাধ্যমে চট্টগ্রামের নীট গার্মেন্টসের নেতৃত্বশীল এবং বর্তমান বাংলাদেশের নীট গার্মেন্টসের আইকন ফোরএইচ গ্রুপে ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারীতে কমপ্লায়েন্স বিভাগে চাকরি জীবন শুরু করি। মানবসম্পদ বিভাগে কাজ করতে গিয়ে পরবর্তীতে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এইচআরএম এ এমবিএ করেছি এবং বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট থেকে এইচআরএম এ পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ও চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট থেকে কমপ্লায়েন্সে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা করি।

আমার ১৩ বছরের চাকরিজীবনে কয়েকটি দেশী-বিদেশী ভালো কোম্পানিতে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আমার ক্যারিয়ারে ফ্যাক্টরী, করপোরেট ও গ্রুপ অব কোম্পানির মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করারও অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি মনে করি দক্ষ কর্মকরতারাই বেশি কর্মস্থল পরিবর্তন করে তবে একটা নির্দিষ্ট সময় যেকোনো কোম্পানিতে থাকতেই হবে।

আমি যেহেতু মানবসম্পদ উন্নয়ন পেশাজীবি সেহেতু এই পেশা নিয়ে একটু আলোকপাত করতে চাচ্ছি, আধুনিক মানবসম্পদ নিয়ে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে থাকলেও দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা এইটাকে দাফতরিক কর্ম হিসেবে গন্য করেন কিন্তু আধুনিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা মাুনষকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূলধন হিসেবে মূল্যায়ন করে এবং তার সঠিক ব্যবহারের মধ্যেই একটি কোম্পানি অনেকগুন বেশি মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম। যত আধুনিক সফটওয়্যার বা ডিজিটাল পদ্ধতি থাকুক না কেন একজন নিবেদিত কর্মীর মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি মুনাফা অর্জন করে থাকেন।

আমি মনে করি একজন চাকরি প্রার্থীর শুধু টেকনিক্যাল ঙ্গান দিয়েই প্রকৃত মেধা যাচাই করা যায়না এবং তা উচিত ও নয়। ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে কখনোই একজন টীম লিডারের টীম পরিচালনার দক্ষতা ও সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব না! ইহা যাচাইয়ের জন্য লিডারকে ফিল্ডে নামাতে হবে এবং টীমের সদস্যদের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে মূল্যায়ন করাতে হবে তবে এই যাচাইকরণ সময়কাল তিনমাসই যথেষ্ট।

যেকোনো বিভাগের প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকরি প্রার্থীর পূর্বের কোম্পানির সাথে কথা বলে নেওয়া উচিত তবে সেক্ষেত্রে মানবসম্পদ পেশাজীবীদের প্রধানের অবশ্যই সততা, নৈতিকতা, চরিত্রবান ও সকল কর্মীর সাথে ভাল সম্পর্কের সাথে নেতৃত্বগুন আবশ্যক কারণ এইচআর এন্ড এডমিন প্রধান পুরো কোম্পানির সকল হেড অব ডিপার্টমেন্টের ও নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে যারা বহির্মুখী এবং সমাজে ও রাষ্ট্রে বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন তারাই উত্তম এইচআর এন্ড এডমিন ম্যানেজার।

মানবসম্পদ খাতে অন্যতম সমস্যা ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা ও দক্ষতার অভাব! যদি এখাতে দক্ষতা না বাড়ানো যায় তবে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে তাই প্রয়োজন ভিত্তিক শিক্ষা জরুরি। আমাদের পাশের দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কা বর্তমানে আরএমজি সেক্টরে উচ্চ পদ দখল করে আছে শুধুমাত্র তাদের সেক্টর অনুসারে শিক্ষাব্যবস্থা এবং যোগাযোগ, ভাষা ও তথ্য প্রযুক্তির দক্ষতার জন্যই।

নতুন চাকরি প্রার্থীদের প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে যতদিন সরকারি চাকরির বয়স থাকবে ততদিন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের আওতাধীন চাকরির জন্য চেষ্টা করতে হবে আর বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বল্প বিনিয়োগে কৃষিভিত্তক কর্মসূচীতে মনযোগী হওয়া জরুরি। পাশাপাশি বেসরকারি চাকরির জন্য ইংরেজি ভাষায় লিখতে ও বলতে পারার দক্ষতা অর্জন এবং একই সাথে কম্পিউটারে অফিস ম্যানেজমেন্টের উপর ভালো দক্ষতা অর্জন করতে হবে তবে সেক্ষেত্রে ছাত্রজীবন থেকেই এর জন্য অনুশীলন করা প্রয়োজন আর ছাত্রজীবন থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি পার্টটাইম চাকরি করা খুবই দরকার।

বর্তমান নতুন চাকরিপ্রাপ্তরা প্রবেশনকাল পার করেই মনে করে সবকিছুই শিখেছেন আর খুব দ্রুত বড় হওয়ার জন্যই চাকরি পরিবর্তন করতে চাই আমি মনে করি একটা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে দু’বছর কাজ করা উচিত।

আমার নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনা হল নিজেকে সফল মানবসম্পদ পেশাজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। একজন মানবসম্পদ ও প্রশাসনের প্রধান যদি কোম্পানিকে ভালবেসে ন্যায়বিচারক, সৎ ও মানুষকে ভালবাসে তবে প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রেখে উৎপাদন বৃদ্ধি করাও সম্ভব এবং সাথে পরকালের পাথেয় ও অর্জিত হয়।

আমি যেমন বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের সাথে জড়িত তেমনি বিভিন্ন সেবামূলক, সামাজিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের সাথেও জড়িত। আমি বিশেষ করে আমার জেলা কক্সবাজার নিয়ে ও কক্সবাজারের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সবসময়ই চিন্তা করি কি করা যায়! বর্তমান করোনা মহামারীতে আমাদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নাজুকতা এবং চিকিৎসক ও হাসপাতাল মালিকদের নির্লিপ্ততা দেখে খুবই হতাশ তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলাদ্বয়ের শিক্ষিত অগ্রসরমান জনগোষ্ঠীর সাথে একত্রিত হয়ে চকরিয়া-পেকুয়ার মাঝামাঝি স্থানে প্রথমে একটা ফিল্ড হাসপাতাল ও পরবর্তীতে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা এবং এই লক্ষ্যেই আমরা চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলার শিক্ষিতদের নিয়ে বর্তমানে ফেইসবুক ভিত্তিক একটা সংগঠন করেছি যার নাম হল চকরিয়া গ্রাজুয়েট ক্লাব।

পরিশেষে বর্তমান মহামারীর দূরদিনে হতাশ না হয়ে সবাইকে ধৈর্য্য ধারণ করার অনুরোধ করব। আশাকরি পৃথিবীতে অতীতের সকল মহামারীর মত এই করোনা মহামারী ও খুব শীঘ্রই বিদায় নিবে।

আরএমজি নিউজ২৪ – রিয়েল ভয়েজ অব আরএমজি এর দীর্ঘ সফলতা কামনা করছি এবং সবাইকে এই অনলাইন পত্রিকাটা ভিজিটের অনুরোধ জানাচ্ছি।

 

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- সোলাইমান কবির সোহাগ

আর.এম.জি নিউজ ২৪


এই বিভাগের আরো খবর