• শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
শিরোনাম

সংকটে তৈরি পোশাক শিল্প চট্টগ্রামে বন্ধ ২৫ কারখানা

rmgnews24
আপডেট: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনাকালীন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক শিল্প। রফতানি আদেশ বাতিল, নতুন আদেশ না পাওয়াসহ নানা কারণে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এ শিল্পে উৎপাদন কমে গেছে। এ অবস্থায় টিকে থাকতে না পেরে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন অনেক উদ্যোক্তা। গত চার মাসে করোনার ধাক্কায় বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ২৫টি তৈরি পোশাক কারখানা। বেকার হয়ে পড়েছেন এসব কারখানার প্রায় ১২ হাজার শ্রমিক। উৎপাদনে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। রফতানি আদেশ না বাড়লে আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে বন্ধ হয়ে যেতে পারে আরও কয়েকটি কারখানা। এসব কারখানার শ্রমকিরা ছাঁটাই আতঙ্কে রয়েছেন। এদিকে লকডাউনের (অবরুদ্ধ অবস্থা) আওতায় থাকা চট্টগ্রাম নগরীর ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের ৬টি তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারখানা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে পারে। এই ৬ কারখানার ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের রফতানি আদেশ বাতিল হতে পারে বলে মালিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে বিজিএমইএ-র সদস্য কারখানার সংখ্যা ৬৮৯টি। তবে ব্যবসায়িক লোকসানসহ নানা কারণে এর মধ্যে গত কয়েক বছরে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। উৎপাদনে ছিল ৩২৫টি কারখানা। এর মধ্যে গত ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চার মাসে করোনাজনিত বৈশ্বিক মন্দার মুখে বন্ধ হয়ে যায় ২৫টি কারখানা। আরও কিছু কারখানা আগে থেকেই লোকসানে পড়ায় বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে উৎপাদনে রয়েছে ২৪১টি তৈরি পোশাক কারখানা। এসব কারখানায় কর্মরত প্রায় চার লাখ শ্রমিক। সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রামের পোশাক কারখানাগুলো ৫০-৬০ ভাগ পর্যন্ত উৎপাদন ক্ষমতা বজায় রাখতে পারছে। করোনার ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতিতে অর্ডার বাতিল, নতুন অর্ডার না পাওয়াসহ নানা কারণে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৪০-৫০ ভাগ উৎপাদন কমে গেছে। এ অবস্থায় কিছু শ্রমিক অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়তে পারেন। বাধ্য হয়েই এ শ্রমিকদের শেষ পর্যন্ত ছাঁটাই করতে হতে পারে।
বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক গত ৪ জুন এক ভার্চুয়াল সভায় দেয়া বক্তব্যে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ইঙ্গিত দেয়ার পরই চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকেই চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন অনেকে। কিছু কারখানা এরই মধ্যে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি শুরুও করেছে বলে জানা গেছে।
বিজিএমইএ সহসভাপতি এএম চৌধুরী সেলিম যুগান্তরকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে এরই মধ্যে চট্টগ্রামের ২৫টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বাকিগুলোয় ৫০-৬০ শতাংশ কাজ আছে। এখন যে অর্ডার রয়েছে, তা দিয়ে জুলাই পর্যন্ত কাজ চালানো যাবে। আগস্টের অর্ডার নাই বললেই চলে। তখন কাজ থাকবে না। সেটা হবে কঠিন সময়। বিশ্বব্যাপী বেচা-বিক্রি কমে গেছে। সে জন্য অর্ডারও কমেছে। অনেক অর্ডার বাতিল হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে রফতানি পণ্য আটকে আছে। নানামুখী সমস্যায় পড়ে গেছে তৈরি পোশাক শিল্প।’ শ্রমিক ছাঁটাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আসলে শ্রমিক ছাঁটাই যে এখন থেকেই শুরু হয়ে যাবে এমন নয়। এটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। কোনো মালিকই শ্রমিকদের ছাঁটাই করতে চান না। কারণ, শ্রমিক না থাকা মানে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া। মালিকের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়া। কেউ ইচ্ছা করে শ্রমিক ছাঁটাই করতে চান না। যখন ব্যবসা থাকে না, শ্রমিকের বেতন দেয়ার মতো অবস্থা থাকে না, তখন নেহাত অপারগ হলে বাধ্য হয়ে আইনানুগ ছাঁটাইয়ে যেতে হয়।’ এদিকে গত ১৬ জুন থেকে রেড জোন ঘোষিত নগরীর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে লকডাউন শুরু হওয়ায় এ এলাকার ৬টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। আরও দুই সপ্তাহ এ এলাকায় লকডাউন চলবে। বন্ধ কারখানাগুলো হল : এইচকে টিজি, কাট্টলী টেক্সটাইল, ভ্যানগার্ড গার্মেন্টস, এইচবি ফ্যাশন, গারটেক্স গার্মেন্টস ও এমএন ক্লথিং। কাট্টলী টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমদাদুল হক চৌধুরী জানান, তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা চালু রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন তাতে সায় দেয়নি। এতে শিপমেন্ট বাতিলসহ বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন তারা।

সূত্র- যুগান্তর-২৪ জুন ২০২০


এই বিভাগের আরো খবর